অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাহায্য পাঠানো শুরু

 আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের গায়ান গ্রামে ভূমিকম্পের পরে একজন ব্যক্তি ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। ২৩ জুন, ২০২২।
আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের গায়ান গ্রামে ভূমিকম্পের পরে একজন ব্যক্তি ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। ২৩ জুন, ২০২২।

এই সপ্তাহের মারাত্মক ভূমিকম্পে আহত এবং গৃহহীনদের সাহায্য করার জন্য শুক্রবার পূর্ব আফগানিস্তানের কিছু অংশে ত্রাণ পৌঁছানো শুরু হয়েছে, কারণ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে এবং একই এলাকায় একটি অনুকম্পন আঘাত করেছে।

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম শুক্রবার বলেছে যে বুধবারের ভূমিকম্পে ১,১৫০ জন নিহত হয়েছে, একটি নতুন অনুকম্পনে আরও পাঁচজন মারা গেছে। জাতিসংঘ ভূমিকম্পে ১,০৩৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা, ইউএনএইচসিআর শুক্রবার বলেছে যে তারা এই অঞ্চলে প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী এবং সহায়তা কর্মী পাঠিয়েছে।

একটি বিবৃতিতে, ইউএনএইচসিআর বলেছে যে তারা ঐ এলাকায় যে সব সাহায্য সামগ্রী পাঠিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৬০০টি তাঁবু, ৪২০০টি কম্বল, ১২০০টি জলের পাত্র, ১২০০টি বালতি, ১২০০টি প্লাস্টিকের শীট,৬০০টি রান্নাঘরের সেট এবং ১২০০টি সোলার ল্যাম্প। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নয়টি ট্রাকে করে কাবুল থেকে এই সব সরবরাহ পাঠানো হয়েছে।

পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বুধবার ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। রাষ্ট্রীয় মিডিয়া অনুসারে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলি হল পাকতিকা এবং খোস্ত, প্রদেশগুলিতে প্রায় ৩০০০ বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

জাতিসংঘের আরেকটি সংস্থা ইউনিসেফ শুক্রবার বলেছে, ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের লোকজন মাঠে নেমেছে।

আফগানিস্তানের ইউনিসেফ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আয়োয়া রাজধানী কাবুল থেকে বলেছেন, ইউনিসেফ জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরবরাহ করছে, সেইসাথে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য এবং কলেরার বিস্তার রোধে সাহায্য করার জন্য কিট সরবরাহ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পানি ও সীমিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে তাদের বড় রকমের ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ১২১ জন শিশু মারা গেছে তবে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। আহত হয়েছে আরও ৭০ জন শিশু।

পাকিস্তান, ইরান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও সাহায্য আসতে শুরু করেছে। অন্যান্য দেশ ঘোষণা করেছে যে তারা সাহায্য পাঠাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

আফগানিস্তানের দুর্যোগ মন্ত্রকের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম হাক্কানি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, এত বড় ভূমিকম্পের পরের পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, বিশেষ করে ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী।

হাক্কানি রয়টার্সকে বলেছেন যে ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানের কাজটি আঘাত হানার মাত্র ৪৮ ঘন্টা পরে শেষ হয়েছিল, কেন এত দ্রুত অনুসন্ধান বন্ধ করা হয়েছিল তার বিশদ বিবরণ দেয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে গত ২০ বছরের মধ্যে দেশটিতে এটি ছিল সবচেয়ে বেশি আঘাত হানা ভূমিকম্প । আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন,ভূমিকম্পের সময় আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক লোক মাটির ঘরে ঘুমাচ্ছিল। কিছু এলাকায় পুরো পরিবার মাটি চাপা পড়ে মারা গেছে।

এই প্রতিবেদনের জন্য কিছু তথ্য এপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG