অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিক্ষোভের মুখে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করল ইকুয়েডর সরকার


কিটো-তে জাতীয় সংসদের কাছাকাছি স্থানে, প্রেসিডেন্ট গুইলারমো ল্যাসো’র সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও জাতীয় ধর্মঘটের পক্ষ সমর্থনকারী এক র‌্যালিতে লামা সেজে যোগ দেওয়া এক ব্যক্তি, ২৫ জুন ২০২২।

আকস্মিক এক পদক্ষেপে ইকুয়েডর-এর প্রেসিডেন্ট গুইলারমো ল্যাসো শনিবার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেন। ইতোপূর্বে, আদিবাসীদের নেতৃত্বাধীন এক ধর্মঘটের মুখে দেশটির ছয়টি প্রদেশে তিনি জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। একই সময়ে, ল্যাসোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য জাতীয় সংসদের আইনপ্রণেতাদের কাছে বিরোধীদল এক আবেদন উত্থাপন করে।

সরকারি কর্মকর্তা এবং ইকুয়েডর-এর বৃহত্তম আদিবাসী সংগঠনের মধ্যে এক প্রাথমিক বৈঠকের পর জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদিবাসি সংগঠনটি দুই সপ্তাহ আগে ধর্মঘট আরম্ভ করে। তারা জ্বালানীর মূল্য হ্রাস, কৃষি পণ্যে মূল্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং শিক্ষায় বৃহত্তর বরাদ্দের দাবি জানায়। ধর্মঘট মাঝেমধ্যে সহিংস রূপও নিয়েছিল। ধর্মঘটের নেতৃত্বে থাকা আদিবাসী নেতাদের বিরুদ্ধে ল্যাসো অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন।

শনিবারের বৈঠকের পর, জাতীয় সংসদের প্রেসিডেন্ট ভিরগিলিও সাকিসেলা বলেন যে, ধর্মঘট অবসানের উদ্দেশে আলোচনা আয়োজনের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হবে।

ঔপনিবেশিক কেন্দ্র কিটো’র ব্যাসিলিকা গির্জায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। কনফেডারেশন অফ ইনডিজিনাস ন্যাশনালিটিজ অফ ইকুয়েডর-এর সভাপতি, লিওনিডাস ইজা সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ বৈঠকে যোগ দেন। এছাড়াও সরকারের মন্ত্রী ফ্র্যান্সিসকো জিমেনেজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান কার্লোস হোলগুইনসহ অন্যান্যরাও তাতে উপস্থিত ছিলেন।

তবে, ইজা জানান যে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালু থাকবে।

অপরদিকে, আইনসভার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ইউনিয়ন ফর হোপ নামক বিরোধীদল ল্যাসোর অপসারণ দাবি করে। দলটি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার সাথে সম্পর্কিত। “গুরুতর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার” কারণে আরোপিত জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এমন অনুরোধ জানায় বিরোধীদল। যদিও জরুরি অবস্থা বর্তমানে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ল্যাসোকে অপসারণ করতে অন্তত ৯২ আইনপ্রণেতার ভোট প্রয়োজন হবে। তবে, ইউনিয়ন ফর হোপ দলের হাতে মাত্র ৪৭টি আসন রয়েছে।

XS
SM
MD
LG