গ্রুপ অফ সেভেন এর সদস্য দেশগুলোর নেতারা রবিবার জার্মানির ব্যাভেরিয়ান অ্যাল্পস এ মিলিত হন। ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের একতা প্রকাশ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানী মূল্যের উপর যুদ্ধের প্রভাব সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।
আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ সাক্ষাৎ করেন। এই দুই দেশ ছাড়াও আনুষ্ঠানিক বৈঠকটিতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালী, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা যোগ দেন।
শোলজ বলেন, “ইউক্রেনের নিরাপত্তা বিষয়ে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই একসাথে কাজ করবে এবং আমরা আবারও সেটা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছি।”
সম্মেলনের প্রাক্কালে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টায়, রাশিয়া রবিবার ইউক্রেনের বৃহত্তম দুটি শহর, রাজধানী কিয়েভ ও খারকিভে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। অপরদিকে, জি-সেভেন এর নেতারা মস্কোকে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন নতুন পন্থা নিয়ে আলোচনা করেন।
পরবর্তীতে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সিএনএন এর “স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন” অনুষ্ঠানে বলেন যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ক্লান্ত হওয়া চলবে না এবং তাদের “স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য এগিয়ে আসতে হবে”।
এদিকে, বাইডেন ঘোষণা দেন যে, জি-সেভেন দেশগুলো রাশিয়া থেকে নতুন করে স্বর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ করবে। ইউক্রেনে পুতিনের আক্রমণের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে এটিই সর্বসাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা । আক্রমণটি পাঁচ মাস ধরে চলছে।
মধ্যাহ্নভোজ ও এক সম্মিলিত ফটোসেশনের জন্য জি-সেভেন নেতারা সমবেত হলে, জনসন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো রসিকতা করে বলেন যে, কিভাবে তারা পুতিনের থেকে বেশি শক্ত-সমর্থ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেন। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেওয়ার পর পুতিনকে এই জোটটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার আগে পর্যন্ত দলটি জি-এইট হিসেবে পরিচিত ছিল।