অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গত সপ্তাহে ব্রিটেনে ৩০ শতাংশের বেশি কোভিড বেড়েছে


ফাইল ফটো -ইউরোপের ব্যস্ততম শপিং স্ট্রিট অক্সফোর্ড স্ট্রিটে ক্রেতারা মুখ ঢেকে হাঁটছেন। লন্ডন ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১

গত সপ্তাহে ব্রিটেন জুড়ে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। গত শুক্রবার পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রায় সবগুলো সংক্রমণের জন্য ‘সুপার সংক্রামক’ ওমিক্রন প্রকরণ দায়ী ছিল।

ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা সে তুলনায় কম।

স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার ড. মেরি রামসে বলেন -‘কোভিড-১৯ এখনও দূর হয়নি’। তিনি আরও বলেন, ‘জনাকীর্ণ, আবদ্ধ স্থানে মুখ ঢেকে রাখাই এখন যুক্তিসঙ্গত কাজ।’

ব্রিটেনে কয়েক মাস আগে থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শাসনামলের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসবের সময়ে রাস্তায় বড় রকমের উত্সব , কনসার্ট এগুলোর কারণে করোনাভাইরাস প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্টিফেন গ্রিফিন ব্যাখ্যা করেন, ‘বোমাবর্ষণের মত ক্রমাগত আসতে থাকা করোনার এই ঢেউগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের সম্ভাবনাকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোভিডের কারণে যে কোনও সংক্রমণই দীর্ঘ হতে পারে।’

ব্রিটেনের সাবেক ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ড. জোনাথন ভ্যান-ট্যাম বিবিসিকে বলেন, ‘শুরুতে যখন এসেছিল তার চেয়ে কোভিড ১৯ এখন অনেকটাই মৌসুমি যে কোনো ফ্লুয়ের মতো’। তবুও ভাইরাসটি আরও গুরুতর অসুস্থতার সৃষ্টি করছে কী না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান।

জার্মানির রবার্ট কচ ইন্সটিটিউটও অধিক সংখ্যক লোকের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে। ফ্রান্সেও সম্প্রতি এ হার বেড়েছে, হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে এবং লোকজনকে মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, পরীক্ষানিরীক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থা শিথিল করলে কভিড-১৯’এর উদীয়মান প্রকরণগুলো আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগে সেগুলো শনাক্ত করা আরও কঠিন হতে পারে।

XS
SM
MD
LG