অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতীয় উন্নয়নে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করতে, দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ আহবান জানান।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের যা কিছু সম্পদ আছে, দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে, বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং জনগণ সম্মান অর্জন করেছে। বাঙালিরা এখন মাথা উঁচু করে সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে হবে, হ্যাঁ আমরা পারি। শুধু উন্নত দেশগুলোই পারে না, আমরাও করতে পারি। ইনশাআল্লাহ, আমরা নিজেদেরকে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব এবং এটাই আমাদের বিশ্বাস।”

বন্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ দেশ হওয়ায় জনগণকে এর সঙ্গেই বাঁচতে হবে। আমাদের সব পরিকল্পনা মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য।”

শেখ হাসিনা বলেন, “সরকার ২০২১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর করেছে। ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে জাতি দুটি মেগা ইভেন্ট হিসেবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত উন্নত দেশে পরিণত করে জনগণের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে, সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সরকার ২০২১-২০৪১ এর জন্য একটি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে “

এর আগে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ও সচিবরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজ নিজ এপিএ-এর অনুলিপি হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এপিএ স্বাক্ষর করেন। এপিএ গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

চুক্তির অধীনে, মন্ত্রণালয়গুলো সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ভিশন, মিশন ও কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করবে এবং বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, সরকারি খাতের জন্য ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর থেকে এপিএ পদ্ধতি চালু করে।

XS
SM
MD
LG