অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গাবতলীর কোরবানির হাট মাতাবে খুলনার ‘সম্রাট’


২৭ মণ ওজনের ‘সম্রাট’

আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে,বাংলাদেশের খুলনায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে সাড়ে ২৭ মণ ওজনের ‘সম্রাট’ ও ২৬ মণের ‘ট্রাম্প’-কে। শুধু সম্রাট-ট্রাম্পই নয়, একই ফার্মে রয়েছে সম্রাটের ভাই নবাব, আছে ডন, বাদশা, টাইটেন, জেমস, কালুসহ বিভিন্ন বাহারি নাম আর রংয়ের ৬৫টি গরু। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা গরুগুলোকে নেয়া হবে ঢাকার গাবতলীর হাটে।

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের মধুমতি ডেইরি ফার্মে এবারের ঈদে কোরবারির জন্য ৯টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্রাট আর ট্রাম্প এই ফার্মের প্রধান আকর্ষণ বলে জানান খামার সংশ্লিষ্টরা।

ফার্মের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইমতিয়াজ হোসেন রনি বলেন, “ফার্মটি আমার চাচা শামীম শেখের। আমি কয়েকজনকে সঙ্গে করে ফার্মটি দেখাশোনা করি। কিছু কর্মচারীও রয়েছে।”

ইমতিয়াজ হোসেন রনি জানান, “এই খামারের শুরুতে, সাড়ে ৩ থেকে ৪ বছর আগে ১৪টি গরু আনা হয়। এখন চার প্রজাতির ৬৫টি গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়টি গরু বিক্রি করা হয়েছে। এটি দুগ্ধ খামার। এখানে এবার কোরবানি ঈদের জন্য ৯টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে আকার-আকৃতি, গঠন, রং, স্বভাব, চেহারা সবদিক থেকে আকর্ষণীয় হচ্ছে সম্রাট। যে কারোরই পছন্দ হবে। এটির দাম ১৩ লাখ টাকা বলেছিল একজন। আমরা ২৫ লাখ টাকা বলেছি। আশা করছি হাটে নেয়ার পরই বিক্রি হবে। ট্রাম্পও ভালো দামে বিক্রি হবে। দু’টি গরুই শান্ত প্রকৃতির।”

তিনি বলেন, “এরা সাধারণ খাবারই খায়। গমের ভূষি, সয়াবিনের খৈল, ধান ও ভুট্টার কুড়া খেয়ে থাকে। এর সঙ্গে দুপুরে নিজেদের ফার্মেই উৎপাদিত ঘাস খাওয়ানো হয়।”

ফার্মের কর্মচারী জাফর ভূঁইয়া বলেন, “এই ফার্মের শুরু থেকে এখানে কাজ করি। গরুগুলোকে সাধারণ খাবার খাওয়ানো হয়। আর দুধের গরুগুলোকে এসব খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন ওষুধ খাওয়ানো হয়। খাবারের সঙ্গে আয়োডিনযুক্ত লবণ দেয়া হয়। এসব খাবার দুই বেলা দেই আর এক বেলা ঘাস।”

ফার্মের মালিক শামীম শেখ জানান, “কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ফার্মে ৯টি গরুর মধ্যে আকর্ষণীয় হচ্ছে সম্রাট ও ট্রাম্প। এর মধ্যে সম্রাটের ওজন সাড়ে ২৭ মণ হবে। আর কালো রংয়ের ট্রাম্পের ওজন ২৬ মণ হবে। গরুগুলো ঢাকা গাবতলীর হাটে নেয়া হবে। আকর্ষণীয় এই দু’টি গরুর দাম ৩২ থেকে ৩৩ লাখ টাকা প্রত্যাশা করছি। যার মধ্যে সম্রাট ১৭ থেকে ১৮ লাখ এবং ট্রাম্প ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা। বাকি গরুগুলো বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হবে।”

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরুণ কান্তি মন্ডল বলেন, “ এ জেলায় বিগত বছরগুলোতে গড়ে কোরবানির জন্য ৮০ হাজার গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে। এই বছর তার চেয়ে কিছু বেশি হবে।”

ডা. অরুণ কান্তি মন্ডল জানান, “এবার ৭ হাজার ৬১৪ জন খামারি ২৩ হাজার ৯১৭টি গরু কোরবানির জন্য লালন-পালন করেছে। এছাড়াও আছে মহিষ ১৭টি, ছাগল প্রায় ৯৩ হাজার এবং দুই হাজার ৩৫০টি ভেড়া।”

XS
SM
MD
LG