অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইসরাইলের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী লাপিদের প্রথম মন্ত্রীসভা বৈঠক


ইসরায়েলি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ (মাঝে), সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের পাশে বসে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সভাপতিত্ব করছেন, ৩ জুলাই, ২০২২।

ইসরায়েলের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ নেতা হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রবিবার তার প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক করেছেন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও চার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলকে পঞ্চম নির্বাচনের দিকে নিয়ে যেতে একটি কার্যকরী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

তার পূর্বসুরি, ক্ষমতার অংশীদার নাফতালি বেনেটের পাশে বসে লাপিদ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, লেবাননের জঙ্গি গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর তিনটি মানববিহীন বিমান ভূপাতিত করার পর ইসরাইল আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নেবে।

লাপিদ গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যা গত বছর জোট সরকার গঠনের একটি চুক্তির অংশ ছিল। বেনেট প্রাথমিকভাবে এটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন । তবে কয়েকটি দলত্যাগ এবং আইনী পরাজয় আর দলত্যাগের ঘটনায় পরে তিনি পদত্যাগ করায় সংসদ ভেঙে যায় । যা নতুন নির্বাচনের সূচনা করে এবং লাপিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

১ নভেম্বর ইসরাইল আবার নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে। লাপিদ ভোটারদের মধ্যে তার মধ্যপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দিয়ে দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে লড়বেন। নেতানিয়াহু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পরে গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হন। বেনেট ঐ নির্বাচনে দাঁড়াবেন না।

লাপিদ বলেন, "আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের সকলের লক্ষ্য, এমনভাবে সরকার পরিচালনা করা, যেন মনে হয় কোনো নির্বাচনী প্রচারণাই চলছে না। ইসরায়েলের নাগরিকদের সবসময়ই একটি কার্যকরী সরকার প্রাপ্য,"।

গত শনিবার হেজবুল্লাহ তার মানববিহীন বিমানটি ভূমধ্যসাগরের প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল যেখানে সম্প্রতি একটি ইসরায়েলি গ্যাস প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হয়েছিল সেখানে পাঠানোয় লাপিদ তার প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই পদক্ষেপটি হেজবুল্লাহর সমুদ্র সীমান্ত নিয়ে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে মার্কিন-মধ্যস্থতায় আলোচনাকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী চারটি নির্বাচনের মতো আসন্ন নির্বাচনেও সম্ভবত নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে একটি গণভোট হবে । কারণ তিনি দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। যদিও তিনি অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তার নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে , যা কিনা রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছে দিয়েছে।

XS
SM
MD
LG