অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সাবেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিচ্ছে তালিবান


আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দরে বদরি ৩১৩ সামরিক ইউনিটের সাথে কথা বলেছেন তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ৩১ আগস্ট ২০২১। (ফাইল ছবি)

তালিবান বলেছে যে তারা সাবেক আফগান কর্মকর্তা, যারা ব্যাপক দূর্নীতির জন্য দায়ী তাদেরকে দায়ী করবে না। সেই দূর্নীতির কারণে দাতাদের-অর্থায়নকৃত উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে ভিন্ন খাতে চলে গেছে, এবং সাবেক আফগান প্রজাতন্ত্রের পতনে অবদান রেখেছে।

তালিবান প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ভিওএ-এর পশতু সার্ভিসকে বলেছেন, "যারা পূর্বের আগ্রাসনের সময় আমেরিকান ব্যবস্থা থেকে নিজেদেরকে লালন-পালন ও সমৃদ্ধ করেছিল, সেই সব সম্পত্তি এবং সম্পদের মালিকানা তাদেরই থাকবে।"

তিনি বলেন, শুধুমাত্র দূর্নীতির জন্য সন্দেহভাজন সাবেক কর্মকর্তারা যারা গত দুই দশকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সরকারি সম্পত্তি দখল করেন, তারা আদালতের মুখোমুখি হবেন।

দুর্নীতির মাধ্যমে বিগত আফগান সরকারের কিছু কর্মকর্তার অর্জিত সম্পত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে মুজাহিদ বলেন, "যে ব্যক্তিরা আগের ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে" তারা আইনি জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবে না এবং তাদের সম্পদ তারা রাখতে পারবে।

উল্লেখ্য, ২০০২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে পুনর্গঠন ও উন্নয়ন প্রকল্পে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অন্যান্য দাতারাও একই উদ্দেশ্যে হাজার হাজার কোটি ডলার প্রেরণ করেছে।

আফগান-আমেরিকান বিশ্লেষক ওয়াহেদ ফকিরি ভিওএ-কে বলেছেন, "দুর্নীতি প্রজাতন্ত্রটির অসম্মানজনক পতনের একটি প্রধান কারণ ছিল। এটি পুরো ব্যবস্থাকেই ক্ষুন্ন করেছে। বিশেষ করে প্রজাতন্ত্রের বৈধতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এছাড়া দুর্নীতি তালিবানকে শক্তিশালী করেছে। তালিবানের প্রচারকে কার্যকর এবং বাস্তব করে তুলেছে।"

মোহাম্মদ হালিম ফিদাই নামে একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন আফগান কর্মকর্তা বলেছেন, দুর্নীতি একটি কারণ, কিন্তু ইসলামিক রিপাবলিক অফ আফগানিস্তানের পতনের অন্তর্নিহিত কারণ নয়।

ফিদাই ভিওএ-কে বলেছেন, "দুর্নীতি তুলে ধরার লক্ষ্য হল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের ভুল কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া। তালিবান বিদ্রোহীরাও দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল কারণ তারা কর আরোপ করেছিল এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্থ আদায় করেছিল৷

ফিদাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং এমনকি তা আফগানিস্তানে দুর্নীতিতে ইন্ধন যুগিয়েছিল।

তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দিকে দুর্নীতির মাত্রা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে, ক্ষমতায়িত যুদ্ধবাজ এবং অন্যান্য দুর্নীতিবাজ নায়করা, অতি তাড়াতাড়ি এত টাকা ঢেলে দিয়েছে যে এটি হজম করা সম্ভব হয়নি।"

প্রায় এক বছর ক্ষমতায় থাকার পরও তালিবান দুর্নীতি দমনে কোনো নীতি ঘোষণা করেনি বা এ জন্য কোনো সরকারি সংস্থা নিয়োগ করেনি।

XS
SM
MD
LG