অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানের চিত্রশিল্পীরা পুরানো তেহরানের ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান


ইরানের রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক আউদলাজানের একটি পুরানো বিল্ডিং-কে আঁকার সময় স্থানীয় একজন বাসিন্দাকে অভিবাদন জানাচ্ছেন চিত্রশিল্পী হাসান নাদেরালি। ২০ জুন, ২০২২।

তেহরানের বাসিন্দারা ধীর গতিতে চলমান যানবাহনে অভ্যস্ত, গ্রীষ্মের উত্তাপে ঢেউ খেলানো এবং ধোঁয়াশার চাদরে দমবন্ধ হয়ে যাওয়া ইরানের রাজধানী শহরে ঐতিহাসিক এবং দুর্নিবার আকর্ষণে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আউটডোর চিত্রশিল্পীকে ছবি আঁকতে দেখে অবাক হতে হয়।

জনাকীর্ণ মহানগরটি ধুলোময় এবং সৌন্দর্যবর্ধনের প্রয়োজন অনিবার্য, তারপরও পুরানো তেহরানে তৈরি করা গলিপথের মধুচক্র ভেদ করে সঙ্কুচিত স্টুডিও থেকে খোলা রাস্তায় সেই দৃশ্য ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা।

এইসব শিল্পীর লক্ষ্য শুধুমাত্র তেহরানের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পুরানো এলাকাগুলোকে তুলে ধরাই নয়, তাদের রক্ষা করতেও সাহায্য করা। অনেক এলাকা বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। ১৯ শতকে গড়ে তলা বিশিষ্ট কোয়ার্টারগুলি ভেঙ্গে আধুনিক সুউচ্চ-ভবন তৈরি করতে ব্যবহৃত ক্রেনগুলিই কেবল দিগন্ত জুড়ে প্রসারিত হয়ে আছে।

৩২ বছর বয়সী একজন কাঠমিস্ত্রি, শিল্প অনুরাগী এবং তেহরানের কেন্দ্রস্থলের বাসিন্দা মর্তেজা রাহিমি বলেন, "চিত্রকর্মগুলি আমাদেরকে হারিয়ে যাওয়া অতীতের নকশা এবং অনুভূতির সাথে একাত্ম করছে। তারা অতীতের নিদর্শনগুলিকে আমাদের মনে রাখতে সাহায্য করছে। … এই দেখুন না, কত পুরনো সুন্দর ভবনগুলো কিভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।"

ঠিক তার পাশেই, চিত্রশিল্পী হাসান নাদেরালী ইম্প্রেশনিস্ট স্টাইলে আলো এবং ঝিকিমিকির খেলাকে ধরে রাখতে উজ্জ্বল রঙ মিশিয়ে আলতো তুলির আঁচড়ে বিন্যাস করেছেন। এন প্লেইন এয়ার, বা ফরাসি ভাষায় "খোলা জায়গায়" ছবি আঁকার আবেগ নিয়ে নাদেরালি মূলত জরাজীর্ণ পরিবেশের চিরন্তন সৌন্দর্য্যকে চিত্রিত করতে চেয়েছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় মাত্র ৪৫ লাখ জনসংখ্যার তেহরান, বর্তমানে ১ কোটিরও বেশি লোকের একটি জমজমাট শহরে রূপান্তরিত হয়েছে।

১৭৯৬ সালে ইরানের রাজধানী তেহরানে স্থানান্তরের পর কাজার রাজাদের দ্বারা নির্মিত শহরটিতে ১৯ শতকের কিছু নিদর্শন, গত কয়েক দশকে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট টাওয়ারে বিলীন হয়ে গেছে।

ওপেন-এয়ার পেইন্টিং অনুরাগী, সরকারী কর্মচারী এবং তেহরানের ঐতিহাসিক ওদলাজান পাড়ার বাসিন্দা সোমায়েহ আবেদিনি বলেন, "আশেপাশের পুরনো জায়গাগুলো আমাদের শিকড়, আমাদের ঐতিহ্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে তাদের মধ্যে অনেক কিছুই বর্তমানে আর অবশিষ্ট নেই।"

তবে শিল্পী এবং ইতিহাসবিদরা ক্রমাগত পুরোনো ভবন ভেঙ্গে উঁচু ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে লড়াই করার চেষ্টা করেছেন।

XS
SM
MD
LG