যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ২০১৬ সালের একটি সালিশি রায় মেনে চলার জন্য চীনকে নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। এটিতে দক্ষিণ চীন সাগরের বিশাল অঞ্চলে বেইজিংয়ের দাবিকে অবৈধ ঘোষণা করে সতর্ক করা হয়, যদি বিতর্কিত জলসীমায় ফিলিপাইনের সেনারা , নৌ কিংবা বিমানবাহিনী কোন ধরনের আক্রমণের সম্মুখীন হয় তা হ’লে ওয়াশিংটন তাদের মিত্র ফিলিপাইনকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
গত মঙ্গলবার ম্যানিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে জারি করা ব্লিংকেনের বিবৃতিটি জাতিসংঘের কনভেনশন অন দ্য ল অফ দ্য সি এর অধীনে দ্য হেইগে প্রতিষ্ঠিত একটি সালিশি ট্রাইবুনালের ২০১৬ সালের সিদ্ধান্তের ষষ্ঠ বার্ষিকীতে প্রকাশ করা হয় । এই ট্রাইবুনাল গঠন করা হয় যখন ফিলিপাইন সরকার ২০১৩ সালে বিতর্কিত সমুদ্রে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।
চীন ঐ সালিশে অংশ নেয়নি, তারা এই রায়কে একটি ছলচাতুরি হিসাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ফিলিপাইন এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দাবিদার রাষ্ট্রগুলির সাথে আঞ্চলিক দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেই যাচ্ছে। ব্লিংকেন চীনের নামের আদ্যাক্ষর উল্লেখ করে বলেন "আমরা আবারও পিআরসিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলি মেনে চলার এবং তার উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানাই"।
চীন এবং ফিলিপাইন ছাড়াও, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং ব্রুনাই এই ব্যস্ত জলপথে পরস্পরের অধিকার দাবি করছে। এখানে সমুদ্রের তলদেশ গ্যাস এবং তেল সমৃদ্ধ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পথে আনুমানিক ৫ লক্ষ কোটি ডলারের নিয়মিত বাণিজ্য ও পণ্য চলাচল করে ।
এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈরিতার একটি প্রধান এলাকা হয়ে উঠেছে।
ওয়াশিংটন বিতর্কিত জলসীমায় যদিও কোনও দাবি রাখে না তবুও কয়েক দশক ধরে জলপথে তাদের নৌবাহিনীর জাহাজ এবং বিমান বাহিনীর জেটগুলি টহল দিয়ে থাকে। তারা বলেছে যে বিতর্কিত অঞ্চলে নৌ ও বিমান চলাচলের স্বাধীনতা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অন্তর্ভুক্ত। চীন এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এশীয় অঞ্চলে নাক গলানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে এবং এ থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছে।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব এনরিক মানালো মঙ্গলবার বলেছেন, সালিশির এই রায় বিতর্কিত অঞ্চলে নতুন প্রশাসনের নীতি ও পদক্ষেপের একটি স্তম্ভ স্বরূপ হবে এবং তিনি"অবিতর্কিত" সিদ্ধান্তকে খর্ব করার প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ম্যানিলার চীনা কনস্যুলেটের সামনে মঙ্গলবার কিছু সংখ্যক বাম-কর্মী ও শ্রমিক,বেইজিংকে সালিশির রায়ের প্রতি সম্মান জানাতে এবং মার্কোস জুনিয়রকে দক্ষিণ চীন সাগরে দেশের অঞ্চল এবং সার্বভৌম অধিকার রক্ষার জন্য অনুরোধ করে বিক্ষোভ করে।
এপি’র সাংবাদিক জোয়েল ক্যালুপিটান এবং অ্যারন ফাভিলা এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন।