বিশ্বব্যাপী প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ শিশু ডিপথেরিয়ার মত সাধারণ রোগগুলোর নিয়মিত টিকা পায়নি। এর মূল কারণ হল করোনাভাইরাস মহামারি স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যাহত করেছে বা টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচার করতে সহায়তা করেছে। জাতিসংঘ এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে যে, তাদের তথ্যমতে গত বছর ২ কোটি ৫০ লাখ শিশু ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ও পেরটুসিস এর মতো রোগের টিকা নিতে পারেনি। এর ফলে, শিশুদের টিকা গ্রহণের হার ২০১৯ সালের পর থেকে নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
ইউনিসেফ এর নির্বাহী পরিচালক, ক্যাথরিন রাসেল বলেন, “এটি শিশু স্বাস্থ্যের জন্য একটি রেড এলার্ট।”
তিনি বলেন, “এক প্রজন্মের মধ্যে শিশু টিকা গ্রহণের হারে আমরা বৃহত্তম লাগাতার পতন দেখছি। এর ফলে ঘটবে দাঁড়াবে অজস্র প্রাণহানি।”
যদিও পৃথিবীর সব অঞ্চলেই টিকা গ্রহণ হ্রাস পেয়েছে, তবুও, এ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, টিকা না পাওয়া শিশুদের বেশিরভাগই উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাস করে। এর মধ্যে রয়েছে, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া এবং ফিলিপাইন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা প্রদানে এই “ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া” বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন কি-না গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণত দুর্বল হয় এবং হামের মত রোগের সংক্রমণে তাদের মৃত্যুও হতে পারে।
এদিকে, বিজ্ঞানীরা বলছেন, টিকা প্রদানে এই ঘাটতির ফলে হাম ও পোলিওর মত রোগের প্রতিরোধযোগ্য সংক্রমণ ঘটেছে। ২০২০ সালের মার্চে, ডব্লিউএইচও এবং তাদের সহযোগীরা, ক্রমবর্ধমান কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে, বিভিন্ন দেশকে তাদের পোলিও নির্মূল কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলেছিল। এর পর, ৩০টিরও বেশি দেশে একাধিক পোলিও মহামারি দেখা দেয়।