অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চাম্পিয়ন ইউক্রেনীয় হাই জাম্পার ইয়ারোস্লাভার ভাবনায় কেবলই স্বদেশ


বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের হাই জাম্পের যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইউক্রেনের ইয়ারোস্লাভা মাহুচিখ ইউজিন। ওরেগন, ১৬ জুলাই, ২০২২।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ইউক্রেন থেকে গাড়িতে করে পালাতে তার তিন দিন লেগেছিল। গাড়ী চালাতে চালাতে চ্যাম্পিয়ন হাই জাম্পার ইয়ারোস্লাভা মাহুচি কেবল ভাবতে থাকেন, আরও কত সময় যে লাগবে তার নিজের ঘরে ফিরে যেতে।

যাওয়ার পথে মাহুচি মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শুনতে পান এবং মাঝে মাঝে কয়েক মাইল দূরে তুমুল গোলাগুলির দৃশ্যও দেখতে পান। যদিও তার নিজের শহর ডিনিপ্রো রাশিয়ান আক্রমণের প্রথম সারির থেকে অনেক দূরে ছিল, তবে যখন তিনি তার মা, বাবা, দাদা এবং বোনকে বিদায় জানাচ্ছিলেন, তখন তাঁর হৃদয় এতটুকুও ভয়ে কাঁপেনি, এবং এটা জানার পরও যে, এই বিদায় হয়তো চির বিদায়ও হতে পারে।

মাহুচি বলেন, "যখন একটি যুদ্ধ চলছে, তখন যে কোনো শহরকেই নিরাপদ বলাটা খুবই জটিল।"

সার্বিয়ায় তার বিপজ্জনক ভ্রমণের পর, মাহুচিখ আবার প্রশিক্ষণ শুরু করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।

সার্বিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করার জন্য সেই দুঃসহ ভ্রমণের চার মাস পর, ২০ বছর বয়সী ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে, ওরেগনের ইউজিনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন-এর তকমা পেতে হয়তো আর খুব বেশি দেরী নেই।

শনিবারের যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তিনি সহজেই এটি তৈরি করেছিলেন এবং মঙ্গলবার একটি স্বর্ণপদক জেতার প্রত্যাশার অন্যতম কারণ, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন রাশিয়ার মারিয়া লাসিটস্কেনকে যুদ্ধের কারণে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

মাহুচি বলেন, "রাশিয়া একটি আগ্রাসী দেশ যেটি আমার দেশে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করেছে। অনেক কোচ এবং ক্রীড়াবিদ আমাদের দেশকে রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীতে গেছেন; কেউ কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন, কেউ আবার কারাবন্দী বা নিহত হয়েছেন। অনেক শহরের খেলাধুলার অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে আমরা আমাদের দেশে প্রশিক্ষণ দেবার মতো কোনও অবস্থা নেই।"

মাহুচি গত বছর টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন এবং তার আগে ২০১৭ সাল থেকে প্রতিটি জুনিয়র স্তরে জয়ী হন — এছাড়া গত ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জেতেন।

তিনি বলেন, "আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, ট্র্যাক এবং জাম্পিংয়ের মাধ্যমে, আমি পুরো ইউক্রেনীয় জাতির শক্তি এবং শক্তিশালী চেতনাকে প্রকাশ করতে পারি। আমি বিশ্বব্যাপী দেখাতে পারি যে, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবো, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাঙ্ক্ষিত জয় নিশ্চিত না হয়।"

কোনো একদিন সেই সোনার পদক দেশে ফিরিয়ে আনার আশা করছেন তিনি। হয়তো মঙ্গলবারের ফাইনালের পরই পদক তার ঝুড়িতে থাকবে।

তিনি বলেন, "এটি খুব খারাপ, এবং এটি মানসিকভাবে বেশ কঠিন। তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা জিতব, এবং আমরা আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসব। এবং আমরা সবসময় এই কঠিন সময়টির কথা মনে রাখব।"

XS
SM
MD
LG