অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দিল জাতিসংঘের আদালত, রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি চলবে


নেদারল্যান্ডসের দ্য হেইগ-এ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের বাইরে গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডাওডা জালো (মাঝে) এবং রোহিঙ্গা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা মন্তব্য প্রদান করছেন, ২২ জুলাই ২০২২।

রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী সংখ্যালঘুদের গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করে করা এক মামলায়, মিয়ানমারের আপত্তিগুলো শুক্রবার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা খারিজ করে দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতের এখতিয়ার আরোপকারী এই সিদ্ধান্তটি শুনানির পথ খুলে দিল, যাতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের প্রমাণ পেশ করা হবে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের এক অনুসন্ধান বলছে যে, মিয়ানমারের এমন আচরণ ১৯৪৮ সালের গণহত্যা চুক্তির লঙ্ঘন। মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহিংস দমন গণহত্যার শামিল। মিয়ানমার আগে বার্মা নামে পরিচিত ছিল।

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে এর সভাপতি, তুন খিন এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ৬,০০,০০০ রোহিঙ্গা “এখনও গণহত্যার মুখোমুখি হচ্ছে”, যখন কিনা “১০ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশের শিবিরে রয়েছে, তারা ন্যায়বিচারের আশার অপেক্ষা করছে।”

আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে মামলাটি দায়ের করে। সে সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রতি করা আচরণে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের বাহিনী নিষ্ঠুর দমনপীড়ন আরম্ভ করলে, লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। গাম্বিয়া যুক্তি দেখায় যে, গাম্বিয়া ও মিয়ানমার, উভয়ই ১৯৪৮ সালের ঐ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পক্ষ এবং সকল স্বাক্ষরকারী পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে এটা নিশ্চিত করার যে চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আদালতের বিচারকগণ এমন যুক্তির সাথে একমত পোষণ করেন।

সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ পাঠকালে এই আদালতের প্রধান বিচারক, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারপতি জোন ই. ডনোহিউ বলেন: “গণহত্যা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী যে কোন রাষ্ট্রই স্বাক্ষরকারী অপর কোন রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে, যার মধ্যে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তেমনটি করাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”



XS
SM
MD
LG