অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইরান থেকে তেল কিনছে তালিবান


উপসাগরীয় এলাকায় ইরানী পতাকার পাশে একটি তেল উৎপাদন কেন্দ্রে গ্যাসের শিখা উদ্গিরিত হতে দেখা যাচ্ছে৷ (ফাইল ছবি)

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালিবান সরকার শনিবার ঘোষণা করেছে, তারা প্রতিবেশী দেশ ইরান থেকে ৩,৫০,০০০ টন তেল কেনার জন্য দেশটির সাথে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

কাবুলে তালিবান-নেতৃত্বাধীন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের উচ্চ-পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহে তেহরান সফর করেছে। ওই সফরে আফগানিস্তানে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করার জন্য দুই পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

তারা আরও বলেছে, ইরান থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি আগামী কয়েক দিনের মধ্যই শুরু হবে এবং এর ফলে আফগানিস্তানে জ্বালানীর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বিবৃতিতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কোন বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

দেশটিতে জ্বালানি ও পেট্রোলের দাম নজিরবিহীন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে বর্তমানে এক লিটার পেট্রোলের দাম ৯৯ সেন্ট এবং ডিজেলের দাম ১.৩২ ডলার।

মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগান ও ইরানি পক্ষগুলি পেট্রোলিয়াম পণ্যের বাণিজ্য ও ট্রানজিট সহজতর করার উপায় প্রস্তাব করার জন্য, জ্বালানী আমদানির জন্য একটি গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন এবং আফগানিস্তানে তেল শোধনাগার নির্মাণের জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠন করতে সম্মত হয়েছে।

আফগানিস্তান তেল ও গ্যাস কর্পোরেশনের প্রধান আব্দুল গাফরকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি কাবুলকে "একটি প্রতিষ্ঠিত যথাযথ মূল্যের ভিত্তিতে ৩,৫০,০০০ টন পর্যন্ত তেল আমদানি করতে দেবে।"

গাফর বলেছেন, এছাড়া রাশিয়া এবং তুর্কমেনিস্তানের সাথেও জ্বালানি আমদানির বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আলোচনা চলছে।

জাতিসংঘ তার সর্বসাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলেছে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি আফগান অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, যার ফলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে।

গত জুন মাসে, দেশটিতে ডিজেলের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে, এবং মৌলিক গৃহস্থালী সামগ্রীর বার্ষিক মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক জরুরি অবস্থার মধ্যে তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি অনুমান করেছে, আংশিকভাবে প্রচণ্ড খরা এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে, দেশটির ১.৮৯ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, ২০২২ সালের জুন-নভেম্বর সময়ের মধ্যে তীব্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়ে পড়তে পারে।

XS
SM
MD
LG