বুধবার একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তাদের নতুন এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে, তালিবান প্রায় এক বছর আগে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর মহিলা ও কন্যা শিশুদের অধিকারকে 'নিশ্চিহ্ন' করেছে। সংস্থাটি সমগ্র বিশ্বের প্রতি আহবান জানিয়েছে এই চরমপন্থী দলের কাছে সকল আফগানের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি দাবি করতে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তান দখল করার এক বছরের মধ্যে দলটির কঠোর নীতি লাখ লাখ নারী ও বালিকাকে নিরাপদ, মুক্ত ও পরিপূর্ণ জীবন যাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।’
তালিবান ২০২১ সালের আগস্টে রাজধানী কাবুলসহ প্রায় সারা দেশ দখল করে নেয়। পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পতন এবং ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সাথে প্রায় ২০ বছরব্যাপি যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সমস্ত আন্তর্জাতিক বাহিনী নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।
তালিবান প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা সব আফগানের অধিকার সমুন্নত রাখবে। কিন্তু ইসলামী শাসকরা তখন থেকেই সপ্তম শ্রেণি থেকে শুরু করে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে, নারীদের জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আরও কয়েক জায়গায় কাজ করে এমন ব্যতীত বাকি পাবলিক সেক্টরে নিযুক্ত নারীদের ঘরে থাকতে বলেছে।
অ্যামনেস্টির গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী শান্তিপূর্ণভাবে বিধিনিষেধ ও নীতির প্রতিবাদ করেছেন, তাদের হয়রানি করা, হুমকি , গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জোরপূর্বক গুম এবং নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে।
তালিবান কর্তৃপক্ষ অ্যামনেস্টির এই গবেষনার ফলাফলের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকার গোষ্ঠী ও বিদেশী সরকার কর্তৃক আরোপিত এই ধরনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দক্ষিণ এশীয় দেশটির জন্য নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত থমাস ওয়েস্ট মঙ্গলবার টুইটারে লিখেছেন যে তার "আন্তঃ-সংস্থা" দল "সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে তালিবান এবং আফগান টেকনোক্র্যাটদের সাথে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে।"