অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ক্যামেরুনের প্রধানমন্ত্রী বলেন বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলে শান্তি ফিরছে তবে বাসিন্দারা নিশ্চিত নন


ক্যামেরুনের এংগ্লোফোন অঞ্চল

ক্যামেরুনের প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা করেছেনস্বাধীনতার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াই প্রধানত দমন করা হয়েছে তা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। জোসেফ ডিওন এনগুটে বলেন, ফেডারাল সেনারা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজয় ঘোষণার সময় এখনও আসে নাই এবং বিদ্রোহীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ফরাসী ভাষাভাষি অধ্যূষিত ক্যামেরুন থেকে ইংরেজিভাষীদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এনগুটে বলেন, ক্যামেরুনের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় যোদ্ধারা হেরে যাচ্ছে।

এনগুটে বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ শহর এবং অনেক শহরতলির স্কুলগুলি চালু হয়ে গেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা তাজা শাকসবজি, তাজা বাদাম এবং অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য বাজার থেকে সম্পূর্ণভাবে যে একেবারে নাই হয়ে গিয়েছিল তা আবার ফিরে এসেছে।” তিনি বলেন, “কৃষি উৎপাদনে বৃক্ষরোপণ শুরু হয়েছে। স্বল্প পরিমাণ ব্যবসা বাণিজ্য এবং সীমান্তগুলোর মধ্যে জমজমাট বাণিজ্য হচ্ছে। সড়কে যানবাহন চলাচল বাড়ছে এবং তা ক্রমেই স্বাভাবিক গতি ফিরে পাচ্ছে। জীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে"।

এনগুটে বৃহস্পতিবার বলেন, কয়েক হাজার যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করেছে এবং ২০১৭ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর যেশত শত স্কুল, ক্ষেত খামার এবং বাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তা এখন চালু হয়েছে।

সরকার বলছে, অবশিষ্ট কয়েক'শ যোদ্ধা নিজেদেরকে সশস্ত্র দূর্বৃত্ত দলে রূপান্তরিত করেছে। তারা শান্তি বিঘ্নিত করছে এবং ধর্ষণ, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার মতো মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন করছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম আম্বাজোনিয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-প্রতিরক্ষা প্রধান ক্যাপো ড্যানিয়েল বলেন,ক্যামেরুনের সরকারি সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে যোদ্ধারা হেরে যাচ্ছে বলে এনগুটের যে দাবি করেছেন তা ভিত্তিহীন। ড্যানিয়েল বলেন, ২০১৯ সালে সংকট অবসানকল্পে সরকার "মেজর ন্যাশনাল ডায়ালগ" সংগঠিত করার পর থেকে যোদ্ধাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, ক্যামেরুনের পাঁচ বছরব্যাপী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতে কমপক্ষে ৩,৩০০ জন নিহত হয়েছে এবং ৭,৫০,০০০ এরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।

XS
SM
MD
LG