অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

হিরোশিমায় শান্তির জন্য প্রার্থনা; নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা


৬ই আগস্ট, ২০২২ তারিখে জাপানের হিরোশিমায় বোমা হামলার ৭৭তম বার্ষিকীতে পারমাণবিক বোমায় নিহতদের স্মরণে মটোয়াসু নদীর উপর মানুষ কাগজের লণ্ঠন ভাসিয়ে দেয়। (কিয়োডো, রয়টার্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত ছবি)

বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলার ৭৭ তম বার্ষিকী উদযাপন করে শনিবার হিরোশিমায় ঘণ্টা বাজানো হয়। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব সহ কর্মকর্তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরে একটি নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিষয়ে সতর্ক করে দেন।

রাশিয়া ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করে এবং এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনার কথা পরোক্ষভাবে উত্থাপন করেন। এই সংঘাত ইউক্রেনের পারমাণবিক স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ১৯৪৫ সালের শেষের দিকে বোমা হামলায় ১,৪০,০০০ নিহত হওয়ার বার্ষিকী উপলক্ষে শহরের কেন্দ্রস্থলে পিস পার্কে জড়ো হওয়া হাজার হাজার লোকের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। এই বার্ষিক অনুষ্ঠানে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘের কোন মহাসচিব অংশগ্রহণ করলেন।

গুতেরেস বলেন, "পারমাণবিক অস্ত্র অর্থহীন। শুধু মৃত্যু ও ধ্বংস ছাড়া, এগুলো কোনো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না”। গুতেরেস অবশ্য সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি এবং রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণকে “ বিশেষ সামরিক অভিযান” বলে অভিহিত করেছে।

হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই, এই বছর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাননি। ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে সমালোচনা করে মাতসুই বলেন,

" রাশিয়ার নেতা, তার জনগণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য নির্বাচিত, কিন্তু ইউক্রেন আক্রমণ করার সময় তা না করে তিনি তাদের যুদ্ধের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন, একটি ভিন্ন দেশে বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ও জীবিকা হরণ করছেন। "

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২৯ যুদ্ধবিমান এনোলা গে 'লিটল বয়' নামে একটি বোমা নিক্ষেপ করে আনুমানিক সাড়ে ৩ লক্ষ জনসংখ্যার এই শহরটিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আহত এবং বিকিরণ-জনিত অসুস্থতার কারণে পরে আরও হাজার হাজার লোক মারা যায়।

বৃহস্পতিবার জাপানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল গালুজিন পার্কের একটি স্মারক পাথরে ফুল দিয়ে সংবাদদাতাদের বলেন, তার দেশ কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।

কিশিদা আরও বলেন, “বর্তমান কঠোর নিরাপত্তা পরিবেশের মধ্যেও আমরা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আদর্শের দিকে এগিয়ে যাব।” তিনি বিশ্বকে পারমানবিক অস্ত্র পরিহার করার আহ্বান জানান। কিশিদিা আগামি বছরের গ্রুপ অফ সেভেন শীর্ষ বৈঠকের স্থান হিসেবে হিরোশিমাকে বেছে নেন।

XS
SM
MD
LG