অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রাণঘাতী হামলার পর ইসরাইল ও গাজা জঙ্গিদের মধ্যে গুলি বিনিময়


গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আঘাত হানার পর, ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন পরিদর্শন করছে ফিলিস্তিনিরা। ৬ আগস্ট, ২০২২।
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আঘাত হানার পর, ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন পরিদর্শন করছে ফিলিস্তিনিরা। ৬ আগস্ট, ২০২২।

শনিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজায় অনেক বাড়িঘর ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং পাল্টা জবাবে দক্ষিণ ইসরাইলে রকেট হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমন অবস্থায়, সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, ইতোমধ্যে ঐ উপকূলীয় অঞ্চলটিতে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছে।

শুক্রবার ইসরাইলের হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ জঙ্গি গোষ্ঠীর একজন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হবার পর, যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ইসরাইল বলছে, এই হামলা আসন্ন আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য। হামলায় নিহতদের মধ্যে ৫ বছরের এক শিশু-কন্যা ও দুই নারীও রয়েছেন।

হামাস যুদ্ধ থেকে কতটা দূরে থাকবে, তা নির্ভর করবে গাজায় ক্রমাগত রকেট হামলা চলতে থাকায় ইসরাইল কতটা শাস্তি দেয় তার উপর।

শনিবার বিকেলে, ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলি গাজা শহরের চারটি আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে। তারা বলছে, ওই এলাকাটি বাহ্যত ইসলামিক জিহাদ জঙ্গিদের আস্তানা। হামলায় ঘনবসতিপূর্ণ ওই শহরটি যে পরিমাণে ধ্বংস হয়েছে, তা এ যাবৎ কালের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক, তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি হামলার ক্ষেত্রে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছিল।

শনিবার অপর একটি হামলায় একটি গাড়িকে আঘাত করলে, এতে একজন ৭৫ বছর বয়সী মহিলা নিহত এবং ছয়জন আহত হয়।

ইসরাইলি সতর্কতার পরে একটি হামলায়, জঙ্গি বিমানগুলি একজন ইসলামিক জিহাদ সদস্যের বাড়িতে পরপর দুটি বোমা ফেলে। বিস্ফোরণটিতে দোতলা একটি বাড়ির পুরো কাঠামো মাটির সাথে মিশে যায় এবং আশেপাশের বাড়িগুলিও এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এসময় ওই এলাকা থেকে নারী ও শিশুরা আতংকে রাস্তায় ছুটে আসে।

এর জবাবে, সারাদিন ধরে, গাজা জঙ্গিরা দক্ষিণ ইসরাইলে রকেট হামলা অব্যাহত রাখে , তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরাইল তখন গাজার চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং প্রতিশোধের সতর্কবার্তা দিয়ে সীমান্তে শক্তিবৃদ্ধি করে। শুক্রবার, তারা গাজা শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে হামলা চালিয়ে উত্তর গাজার ইসলামিক জিহাদের কমান্ডার, তাইসির আল-জাবারিকে হত্যা করে।

শুক্রবার সন্ধ্যায়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, "ইসরাইল গাজায় বৃহত্তর সংঘাতে আগ্রহী নয়, তবে আমরা এখান থেকে সরেও আসবো না।"

তিনি বলেন, “গাজা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডের দিকে যে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টার জন্য এই সরকারের জিরো-টলারেন্স নীতি রয়েছে। তারা যখন আমাদের বেসামরিক লোকদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, সেক্ষেত্রে আমরাও চুপ করে বসে থাকবো না।"

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রক ১৫ জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। মন্ত্রক বেসামরিক এবং জঙ্গিদের পৃথক করে উল্লেখ করেনি। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক অনুমানে প্রায় ১৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

ইসরাইলি এক সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, ট্যাঙ্ক-প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত দুটি জঙ্গি স্কোয়াডের "আসন্ন হুমকির" প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

এই অঞ্চলে জাতিসংঘের বিশেষ দূত টর ওয়েনেসল্যান্ড বলেছেন: "রকেট উৎক্ষেপণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং আরও উত্তেজনা এড়াতে আমি সব পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি।"

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ প্রয়োজনে ২৫,০০০ রিজার্ভ সৈন্য ডাকার একটি আদেশ অনুমোদন করেছেন, যখন সেনাবাহিনী হোম ফ্রন্টে একটি "বিশেষ পরিস্থিতি" ঘোষণা করেছে, স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সীমান্তের ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) মধ্যে সেখানকার লোকজনের কার্যকলাপ সীমিত করা হয়েছে।

ইসরাইল এবং হামাস মাত্র এক বছর আগেও একটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, গত ১৫ বছরে চারটি বড় সংঘাতের মধ্যে সেটি ছিল একটি। এছাড়া বেশ কয়েকটি ছোট ছোট যুদ্ধের ফলে দরিদ্র ভূখণ্ডটির প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাসিন্দাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।

XS
SM
MD
LG