অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরান পারমাণবিক চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচকরা আশাবাদী


ইরান রাষ্ট্রীয় টিভি কর্তৃক ২৬ জুন ২০২২, রবিবার, এপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও থেকে নেওয়া এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ‘জুলজানাহ’ নামে ইরানের স্যাটেলাইটবাহী একটি রকেট ইরানের এক অজ্ঞাত স্থান থেকে উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে।

২০১৫ সালের ইরান পরমাণু বিষয়ক চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করতে, নতুন করে আলোচনায় নিয়োজিত উচ্চপদস্থ আলোচকরা রবিবার এমন আভাস দিয়েছেন যে, ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধিকরণে তেহরানের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপে এক সমঝোতায় পৌঁছনোর সম্ভাবনার বিষয়ে তার আশাবাদী।

আলোচনার চতুর্থ দিনে, ভিয়েনার প্যালে কোবার্গ-এর বাইরে, রুশ রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানভ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা শেষ দাগের ৫ মিনিট বা ৫ সেকেন্ড দূরে দাঁড়িয়ে আছি।” তিনি বলেন “তিনটি বা চারটি বিষয়” রয়েছে যেগুলোর সমাধান করতে হবে।

উলিয়ানভ বলেন, “সেগুলো সংবেদনশীল, বিশেষ করে ইরানী বা আমেরিকানদের জন্য। আমি নিশ্চয়তা দিতে পারব না, কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে যে আমরা ঠিক পথেই এগোচ্ছি।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্যেষ্ঠতম আলোচক, এনরিকে মোরা বলেন যে, এ পর্যন্ত আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তিনি “সম্পূর্ণরূপে” আশাবাদী।

ইরানের গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমরা অগ্রসর হচ্ছি, এবং আমি আশা করি আমরা দ্রুতই আলোচনা সমাপ্ত করতে পারব।”

প্রায় একমাস ধরে আলোচনাটি স্থবির হয়ে থাকার পর, ইরানের ভেঙে পড়া পরমাণু বিষয়ক চুক্তিটি নিয়ে বৃহস্পতিবার ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলোচকদের মধ্যে আবারও পরোক্ষ আলোচনা আরম্ভ হয়।

চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ার পর থেকে, ইরান উন্নততর সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে আসছে এবং তাদের বিশুদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের মজুদ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি করছে।

ইরান ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানী, ব্রিটেন, রাশিয়া ও চীনের সাথে পরমাণু বিষয়ক চুক্তিটি করে। চুক্তি অনুযায়ী জাতিসংঘের পরিদর্শকদের নজরদারিতে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধিকরণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ করতে রাজি হয়। এর বদলে তাদের উপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ছিল।

এরপর, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিটি থেকে প্রত্যাহার করে নেয় এই বলে যে, তিনি আরও কঠোর একটি চুক্তি করবেন, কিন্তু পরে তা আর হয়নি। তার এক বছর পর ইরান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করতে আরম্ভ করে।

XS
SM
MD
LG