চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছে সাধারণ চা শ্রমিকরা। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় তারা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার চৌমুহনী রেললাইন ও কুলাউড়া মৌলভীবাজার আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেছে। ফলে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
এসময় সিলেটগামী পাহাড়িকা ট্রেন সিলেটের দিকে আসছিল। অবরোধের কারণে আটকা পরে পাহাড়িকা।
অবরোধে অংশ নেয়া চা শ্রমিক স্বপন নাইডু বলেন, “এতদিন ধরে আমরা ধর্মঘট করছি। কিন্তু আমাদের দাবি মেনে নেয়া হচ্ছে না। তাই আজ আমরা রেলপথ অবরোধ করেছি।”
এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে জেলার বিভিন্ন উপজেলার চা বাগানে কাজে যোগ দেয় শ্রমিকরা। পুরের পর সাধারণ চা শ্রমিকদের একাংশ ধর্মঘট অব্যাহত রেখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
তারা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এটা তারা কোন টেলিভিশনে দেখেনি বা শোনেনি। নেতারা প্রধানমন্ত্রীর নামে মিথ্যা নিদের্শনা দিয়ে আমাদের কাজে যেতে বলছেন। তাই ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আমরা আবারও আন্দোলন শুরু করেছি।”
চলমান আন্দোলন অবসানে, জেলা প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয় শ্রমিক নেতাদের। সুরাহা না হলে, গত শনিবার শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদপ্তরে এক বৈঠকে জানানো হয়, “বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি দেশের বাইরে যাবেন। সেখান থেকে এসে গণভবনে শ্রমিকদের নিয়ে বসবেন এবং তাদের তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা শুনে বিষয়টি দেখবেন।”
প্রথমে চা শ্রমিক নেতারা এ কথা মানলেও পরে তা প্রত্যাখ্যান করেন। সর্বশেষ গত রবিবার রাত ৯টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসন পুনরায় শ্রমিক নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়টি বলেন।
শ্রমিক নেতারা বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। তবে আমাদের মজুরি ১৪৫ টাকা ঘোষণা আমরা মেনে নিচ্ছি না। চলমান মজুরিতেই আমরা প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কাজ করে যাবো। পরবর্তী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের মজুরি ৩০০ টাকা করার বিষয়টি দেখেন।”
এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে, কুলাউড়া, বড়লেখা, জুড়ি, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, “আমরা কাজে যোগ দিচ্ছি। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।”
এদিকে, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের একাংশ জেলার বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন অব্যহত রাখেন।
শ্রীমঙ্গল খাইছড়া চা বাগানের শ্রমিক সন্তান রাঘব গোয়ালা জানান, “৩০০ টাকা মজুরি দেয়ার কথা বলে আমাদের আন্দোলনে নামিয়েছে। এখন ১২০ টাকা মজুরিতেই আবার কাজে যাবো এটা কেমন কথা। তাহলে মিছিল করলাম কেন। আন্দোলন করলাম কেন।”
একই বাগানের আরেক চা শ্রমিক দিলীপ ভুঁইয়া জানান, “প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আমরা নিজের কানে শুনলে আন্দোলন থেকে সরে আসবো। তা না হলে ৩০০ টাকা মজুরি না দিলে আন্দোলন থেকে সরবো না।”
শ্রীমঙ্গলের লছনা এলাকায়, ঢাকা-মৌলভীবাজার সড়কে, শ্রীমঙ্গল লেবার হাউজের সামনে,কমলগঞ্জের সমশের নগর ও মৌলভী চা বাগানসহ বিভিন্ন চা বাগানে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিকরা।
মিছিলে অংশ নেয়া শ্রীমঙ্গল কালিঘাট চা বাগানের শ্রমিক অবান তাঁতী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আমরা সরাসরি শুনিনি। এটা নেতাদের ভাঁওতাবাজি। আমরা মজুরি ৩০০ টাকা চাই।”
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুছ ছালেহ বলেন, “যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”