মিয়ানমারে ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূতকে দেশটির কর্তৃপক্ষ আটক করেছে। ঘটনা সম্পর্কে অবহিত তিনজন ব্যক্তি বৃহস্পতিবার এমন কথা জানিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে গত বছর এক সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করে নেয়।
ভিকি বোম্যান এবং তার স্বামী হাতিন লিন-কে বুধবার আটক করা হয় বলে সূত্রগুলো জানায়। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে। বোম্যান বর্তমানে মিয়ানমার সেন্টার ফর রেসপন্সিবল বিজনেস (এমসিআরবি) নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। লিন বর্মার একজন শিল্পী ও সাবেক রাজনৈতিক বন্দি।
ঘটনা সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্র বলে যে, বোম্যান ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিবাসন বিষয়ক অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারগুলো এমন সময়ে হল যখন কিনা মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোকে লক্ষ্য করে ব্রিটেন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটিতেও যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটেন।
আন্তর্জাতিক ঐ মামলায় মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ড ও কানাডার পর ব্রিটেন চতুর্থ এমন দেশ যারা আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিল। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক অভিযান পরিচালনা করেছিল কিনা, তা নির্ধারণ করতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়া ঐ মামলাটি দায়ের করে।
মন্তব্যের জন্য বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার এক মুখপাত্র তাতে কোন সাড়া দেননি।
ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত ব্রিটেনের দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, “মিয়ানমারে এক ব্রিটিশ নারীর গ্রেফতারের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি এবং কনস্যুলারের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করছি।” তবে, ঐ মুখপাত্র আটককৃত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
৫৬ বছর বয়সী বোম্যান ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। দেশটিতে তার তিন দশকেরও বেশি সময় অবস্থানের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তার স্বামী, ৫৫ বছর বয়সী হাতিন লিন, মিয়ানমারের সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্পীদের একজন এবং দীর্ঘদিনের একজন সক্রিয়কর্মী। পূর্ববর্তী এক জান্তা সরকারের বিরোধিতা করায় ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে তিনি ৬১/২ বছর কারাবন্দি ছিলেন।