অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানের রাজনৈতিক সাংবাদিকরা আক্রমণের সম্মুখীন


ঘারিদা ফারুকী, পাকিস্তানি রাজনৈতিক শো হোস্ট

বেশ কিছু টুইটার নটিফিকেশন ঘারিদা ফারুকীকে সতর্ক করেছে যে তিনি আবারও হয়রানিমূলক প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। এই রাজনৈতিক সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যৌনকর্মীদের জন্য ব্যবহার করা একটি পাকিস্তানি শব্দ ব্যবহার করে হ্যাশট্যাগ এর মাধ্যমে হাজার হাজার ঘৃণাপূর্ণ পোস্ট দেয়া হচ্ছে।

ঘারিদা ফারুকী ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, "আমি ইতোমধ্যেই রাতে হ্যাশট্যাগটি দেখেছি কিন্তু এটিকে উপেক্ষা করেছিলাম, ভেবেছিলাম এটা মাত্র কয়েকজনের কাজ" । পরের দিন সকালে দেখা গেল, এটি শীর্ষে রয়েছে এবং আমি নিজেকে বললাম, এই তো আবার শুরু হল।”

অনলাইনে এই আক্রমণ বিরক্তিকর ছিল, তবে ফারুকীর জন্য এটি প্রথম নয়। পাকিস্তানের নিউজ ওয়ান-এ “ জি ফর ঘারিদা” অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা, তার ২০ বছরের কর্মজীবনে বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে অবমাননার মোকাবিলা করেছেন।

অনলাইনে উত্যক্ত করার বিষয়ে কোয়ালিশন ফর উইমেন ইন জার্নালিজম বা সিএফডাব্লিউআইজে এর দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা শীর্ষ পাঁচটি সবচেয়ে খারাপ স্থান এর মধ্যে পাকিস্তান স্থান পেয়েছে। বৈশ্বিক অলাভজনক সংস্থাটি গত দুই বছরে ১৩২টি দেশে ডিজিটাল হুমকি বিশ্লেষণ করেছে।

সিএফডাব্লিউআইজে এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কিরণ নাজিশ বলেন, "বেশিরভাগ নারী সাংবাদিকই দৃঢ় প্রত্যয়ী এবং তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।" কিন্তু, "এটি অবাধে রিপোর্ট করতে সক্ষম হওয়ার জন্য তাদের সময় এবং সংস্থানগুলি তৈরি করার ক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।"

দেশটির নারী সাংবাদিকরা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে যৌন নির্যাতন এবং লিঙ্গ-সম্পর্কিত হুমকির সম্মুখীন হন।

নাজিশ বলেন, অনলাইনে উত্যক্ত করার কথা যদি বাদই দেই তবে আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন? নারী সাংবাদিকরা অনলাইনে অপমানজনক প্রচারণার ভয় ছাড়াই স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করতে এবং কঠিন প্রশ্ন করতে সক্ষম হচ্ছেন”।

ফারুকীর ক্ষেত্রে, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের একজন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সংবাদ শেয়ার করার এবং মন্তব্য করার পরে তাঁর উপর অনলাইন আক্রমণ শুরু হয়। বেশির ভাগ হামলাই এসেছে এমন অ্যাকাউন্ট থেকে যেগুলো পাকিস্তান তেহরিক ই-ইনসাফ বা পিটিআই দলকে সমর্থন করে বলে মনে করা হচ্ছে। ।

টুইটার অপব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিল কিন্তু ততক্ষণে, হ্যাশট্যাগটি ১২৮,০০০ টিরও বেশি টুইট এ দেখা গেছে।

ফারুকী বিশ্বাস করেন অনলাইন হয়রানির পেছনে পিটিআই রয়েছে। তিনি এবং পাকিস্তানের অন্যান্য নারী সাংবাদিক পূর্বে ঐ দল এবং সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে "উদ্দীপক" অনলাইন আক্রমণের অভিযোগ করেছেন যে তাদের সমর্থকরা সমালোচকদের বিরুদ্ধে এই হয়রানি বাড়িয়ে তোলে।

পিটিআই পাঞ্জাবের তথ্য সচিব এবং প্রাক্তন জাতীয় পরিষদ সদস্য আন্দলিব আব্বাস স্বীকার করেছেন যে অনলাইন আক্রমণ একটি সমস্যা কিন্তু বলেছেন যে পিটিআই মিডিয়ার হয়রানি সমর্থন করে না।

ফারুকী বলেন যে তিনি ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির সাইবার ক্রাইম শাখায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এখনও পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তিনি মজা করে বলেন যে তার গন্ডারের চামড়া এবং তিনি অনলাইন হুমকি এবং সহিংসতার দিকে খুব কম মনোযোগ দেন।

ফারুকী অবশ্য বলেন, তিনি সহকর্মীদের স্ব-সেন্সর করতে দেখেছেন, তাঁরা হয় সোশ্যাল মিডিয়া ত্যাগ করছেন নয়ত কঠিন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

পাকিস্তানের সাংবাদিকরা এর আগে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করেছেন।

২০২০ সালের আগস্টে সাংবাদিকদের একটি দল একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে সেই সব নারীদের উপর অনলাইনে যৌন হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল যারা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন তৈরি করেন।

XS
SM
MD
LG