বাংলাদেশের খুলনাঞ্চলে চাষীদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। পানি সংকটের কারণে পাটের জাঁক নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ক্ষেতেই শুকাচ্ছে কেটে রাখা সোনালী আঁশ। এ অবস্থায়, সেচের মাধ্যমে পুকুর জলাশয়, খাল-বিলে পানি ভর্তি করে পাট জাঁক দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা কৃষি কর্মকর্তারা।
একাধিক চাষী বলছেন, “পাটের কাঙ্ক্ষিত চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও মিলছেনা সুফল। খাল-বিল, হাওর-বাওর, পুকুর-ডোবা, জলাশয়ে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায়, চাষের জমিতেই শুকাচ্ছে আমাদের স্বপ্ন ও হাড়ভাঙা পরিশ্রম। লাভ দূরের কথা, এখন আসল নিয়ে টানাটানিতে পড়েছি।”
বৃষ্টি স্বল্পতার কারণে জলের অভাব, বিকল্প পথ হিসেবে, পাটের জাঁক দেয়া জন্য সেচের মাধ্যমে পুকুর, ডোবা, খাল-বিলে পানির ব্যবস্থা করেছেন অনেকে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, “আষাঢ়-শ্রাবন মাসকে বর্ষাকাল বলা হলেও, আবহাওয়া বিজ্ঞান-এর ভাষায় জুন হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। অন্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাত কম। কারণ খুলনা অঞ্চলে এবার মৌসুমী বায়ু বেশি সক্রিয় হয়নি। যদি মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হতো তবে বৃষ্টিপাত বেশি হতো। এছাড়া এ অঞ্চলে এবার নিম্নচাপ ও লঘুচাপের প্রভাব কম। নিম্নচাপ বা লঘুচাপ হলেও বৃষ্টিপাত বেশি হতো।”
খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং কৃষি প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি না থাকায় বেশির ভাগ জমিতে পাট কাটার পর, মাঠেই পড়ে আছে। ঋতু অনুযায়ী এখন খাল-বিল, হাওয়-বাওর, পুকুর-ডোবা, জলাশয় পানিতে পরিপূর্ণ থাকার কথা। পানি নেই, তাই চাষের জমিতেই শুকাচ্ছে পাট। তবে, বড় ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যে, চাষীরা কৃত্রিম উপায়ে পানি সরবরাহ করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চল-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফজলুল হক জানান, “বৃষ্টি না হওয়ায় এবার পাট চাষীরা পাট জাঁক দেয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। তবে সেচের মাধ্যমে পুকুর জলাশয়, খাল-বিলে পানি ভর্তি করে পাট জাঁক দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা। এখনও বৃষ্টিপাতের যথেষ্ট সময় রয়েছে, হতাশার কিছু নেই।”