অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাজনৈতিক সংকট নিরাপত্তা-অর্জনকে ম্লান করছে: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী


ইরাকের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাধিমি বাগদাদে তার কার্যালয়ে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন (২৩ জুলাই, ২০২১)
ইরাকের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাধিমি বাগদাদে তার কার্যালয়ে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ছবি তোলার জন্য পোজ দিচ্ছেন (২৩ জুলাই, ২০২১)

ইরাকের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাধিমি শনিবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির রাজনৈতিক সংকট গত কয়েক বছরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অর্জনগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে।

আল-কাধিমির সতর্কবার্তায় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দেশটিতে পরিচালিত সামরিক অভিযানের পর, ইরাকে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটের বিপদ ঘনীভূত হচ্ছে। গত বছরের সংসদীয় নির্বাচনের পর প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরু মুকতাদা আল-সাদরের অনুসারী ও প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান-সমর্থনপুষ্ট দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের ফলে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

অক্টোবরের নির্বাচনে আল-সাদর সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করলেও, একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনে ব্যর্থ হন। এর ফলে, গত কয়েক বছরের মধ্যে ইরাকে সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়।

আল-সাদর সমর্থকরা পরে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। তার সমর্থকরা গত মাসে বাগদাদে সংসদ ভবনে জোর করে ঢুকে পড়ে। আল-সাদর দাবি করেন যে, পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে আগাম নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে ইসলামী দিবসে, বাগদাদে দেওয়া এক বক্তব্যে আল-কাধিমি বলেন, “রাজনৈতিক সংকট দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে অর্জনগুলো ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি।” তিনি বলেন, “ এখন এর সমাধান হচ্ছে সকল রাজনৈতিক দলকে ইরাক ও ইরাকের জনগণের স্বার্থে ছাড় দিতে হবে।’

সমাধানের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে ইরাক ও ইরাকের স্বার্থে

এই সংকটের সমাধান খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে আল-কাধিমি জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তবে গোলাগুলি বন্ধ হবে না। আর তা বহু বছর ধরে চলতে থাকবে।”

এ মাসের শুরুর দিকে, আল-সাদর তার অনুসরণকারীদের ইরাক জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করার জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান। একই দিনে, ইরাক সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো একই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে তিনি তার বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। ঐ সময় আল-সাদর বলেন, তিনি শান্তি রক্ষা করতে চান; আর ইরাকিদের রক্ত তার কাছে অমূল্য।

২০১৭ সালে, ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীটি পরাজিত হওয়ার পর, ইরাকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছিল। তবে জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনী এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যহত রাখে। তারা প্রায়শই সড়কের পাশে রাখা বোমা দিয়ে অথবা বহরে গুলি করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করেছে।

আইএসের উত্থানের সময়, যখন গোষ্ঠিটি ইরাকের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করতো, তখন এই তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে প্রাণ সংহারী বোমা বিস্ফোরণ ছিল দৈনন্দিন ঘটনা।

XS
SM
MD
LG