অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কাজে ফিরেছেন বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা


কাজে ফিরেছেন বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা।
কাজে ফিরেছেন বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা।

টানা ১৯ দিন আন্দোলনের পর, কাজে ফিরেছেন বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের চা বাগানের শ্রমিকরা।, রবিবার (২৮ আগস্ট) সিলেটের অধিকাংশ বাগান বন্ধ থাকলেও, বেশ কয়েকটি বাগানের চা শ্রমিকদের কাজে ফিরতে দেখা গেছে। অনেক বাগানে শ্রমিকরাআনন্দ মিছিল করে কাজে যোগ দেন।

সকালে সিলেট নগরের মালনীছড়া চা বাগান ও দলদলি চা বাগানে কাজ শুরু হয়েছে। দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আন্দোলনের নেতারা।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, “চা বাগানে অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। সকাল থেকে বেশ কয়েকটি বাগানে, শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে কিছু বাগানে আজ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায়, কাজে যাচ্ছেন না তারা। সে সকল বাগানের শ্রমিকরা সোমবার (২৯ আগস্ট) থেকে কাজে যোগ দেবেন।”

বাংলাদেশ শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, “মজুরি ১৭০ টাকা প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মেনে নিয়েছি। তবে শ্রম আইনের সংশোধন ও জমিজমা সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু দাবি-দাওয়ার বাস্তবায়ন চাই আমরা।”

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, “চা শ্রমিকরা তাকিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখের দিকে। তিনি মজুরি ঘোষণা করেছেন শ্রমিকরা মেনে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ করে দিয়েছেন এ জন্য তাঁর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন চা শ্রমিকরা। ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। পরে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসে গত সোমবার (২২ আগস্ট) দুপুরে শ্রমিকদের একাংশ আন্দোলন প্রত্যাহার করে। আরেক অংশ আন্দোলন অব্যাহত রাখে।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার (২৭ আগস্ট) চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর পাশাপাশি আনুপাতিক হারে তাদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানোর আশ্বাস দেয়া হয়। শনিবার বিকালে গণভবনে চা শ্রমিকদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চা বাগান মালিকপক্ষের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

XS
SM
MD
LG