অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সিলেটের জৈন্তাপুরে বালু-শ্রমিকদের নৌকা দিয়ে নদী অবরোধ কর্মসূচি পালন

নৌকা দিয়ে নদী অবরোধ করে রেখেছে বালু-শ্রমিকরা
নৌকা দিয়ে নদী অবরোধ করে রেখেছে বালু-শ্রমিকরা

বাংলাদেশের সিলেট জেলার জৈন্তাপুরের, বড় নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু, পাথর উত্তোলন বন্ধ, বোল্ট গেট দিয়ে বালু-পাথর পরিবহন বন্ধ এবং নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সরকারি রয়্যালটি আদায়ের দাবিতে নৌকা দিয়ে নদীপথ বন্ধ করে অবরোধ পালন করেছে বালু শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সারী নদীর ইন্দারজু এলাকায় নৌকা বন্ধন করে শ্রমিকরা নদীপথ অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়৷

অবরোধ পালনকারী সারী নদী নৌকা শ্রমিকের সভাপতি আমির আলী এবং সংগঠনের অন্য নেতারা জানা, সম্প্রতি সারী নদীর তৃতীয় অংশের মামলাভুক্ত এলাকা ছাড়া বাকি দাগগুলো ইজারা দেয় সরকার। কিন্তু উল্লেখিত দাগগুলোতে বালু-পাথর না থাকায় মামলাভুক্ত দাগ থেকে, অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার এবং বোল্ট গেট নৌকা ব্যবহার করে বালু-পাথর পরিবহন করা হচ্ছে এবং স্থানীয় নৌকা শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ সবের প্রতিবাদে তারা এই অবরোধ পালন করছেন।

এর আগে,গত ২৯ আগস্ট তারা বিক্ষোভ মিছিল করে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে। সমস্যা সমাধানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা স্মারকলিপি প্রদান করে।

তাদের দাবি, অবিলম্বে সারী নদী থেকে ড্রেজার অপসারণ, বোল্ট গেট নৌকায় মালামাল পরিবহন বন্ধ, সরকারি রয়্যালটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে আদায় এবং সারী নদীর মধ্যে থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

শ্রমিকরা বলেন, “সোমবার বিক্ষোভ করেছি ও স্মারকলিপি দিয়েছি। আজ(৩০ আগস্ট) নদী পথ অবরোধ করেছি। তারপরও যদি সমাধান না আসে, ৩১ আগস্ট সকাল তেকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সারীঘাট পয়েন্টে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

নৌকা শ্রমিক সভাপতি আমির আলী জানান, “শ্রমিকদের পেটে লাথি দিয়ে ড্রেজার ব্যবহার করে এবং বোল্ট গেট ব্যবহার করে সারী নদীতে অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না। আমরা যে কোনো মূল্যে দাবি আদায় করব। আমাদের দাবি, আমরা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে নয়, শরীর খাটিয়ে কর্ম করে বেঁচে থাকতে চাই।”

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, “জৈন্তাপুর উপজেলার খেটে খাওয়া শ্রমিকদের কর্মহীন করতে যারা অবৈধ যন্ত্র ব্যবহার করছে, অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।”

শ্রমিকদের দাবি যৌক্তিক ও যুক্তিসংগত বলে তিনি মনে করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম জানান, “সোমবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে আমার দপ্তরে এসেছিল। আমি তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছি৷ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা আসলে, দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”

XS
SM
MD
LG