জম্মু ও কাশ্মীরে আকস্মিক বন্যা, বজ্রপাত এবং অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রাকে গবাদি পশুর ক্ষতি, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং কয়েক ডজন মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয় যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং মানব সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকাশ হিসাবে দেখা হয়।
একটি ঘটনায়, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে হিন্দুদের বার্ষিক তীর্থযাত্রার সময় আকস্মিক বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সোনাম লোটাস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "যদিও আমরা প্রতিনিয়ত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করি, তবে কখনও কখনও তা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে।"
এই অঞ্চলটিতে মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় , যার ফলে পরিবেশগতভাবে ভঙ্গুর উপত্যকায় এক ডজন আকস্মিক বন্যা হয়েছে, যা ফসল এবং অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি করেছে। কাশ্মীর মহাসড়ক, মধ্য ভারত থেকে উপত্যকার প্রবেশদ্বার, ঘন ঘন ভূমিধস এবং প্রবল বৃষ্টিতে পাথর ধসে পড়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।
কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওইনফরমেটিক্স বিভাগের একজন ফ্যাকাল্টি সদস্য সুমিরা নাজির জাজ ব্যাখ্যা করেছেন " আমরা বিশ্লেষণ করেছি যে গত ৪০ বছরে, ১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উপত্যকায় দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে "।
জাজ বলেন, গুলমার্গ, পাহালগাম এবং কাজিগুন্ডের মতো উচ্চ স্থানগুলিতে আবহাওয়া স্টেশনগুলি সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি রেকর্ড করেছে, যখন একটি শহুরে দ্বীপের প্রভাব আঞ্চলিক রাজধানী শ্রীনগরে তাপমাত্রা বাড়িয়েছে। তিনি বর্ধিত বৃষ্টিপাতের কথাও উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে শীতকালে, যদিও উপত্যকাটি মহাসাগর থেকে অনেক দূরে।
কাশ্মীরের একজন ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা আব্দুল সালাম ভাট ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন যে তিনি কয়েক দশক ধরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখেছেন। তিনি বলেন, "কদাচিৎ আমরা গ্রীষ্মের রাতে বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যান ব্যবহার করতাম। তবে, আজকাল সিলিং ফ্যান ঘরকে ঠান্ডা করে না। উপত্যকায় এয়ার কন্ডিশনার এখন নতুন করে একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠছে"।