সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃংখলা কমিটির সভা শেষে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, “এ বছর এসএসসি পরীক্ষা তিন ঘণ্টার পরিবর্তে দুই ঘণ্টায় হবে। পরীক্ষার এমসিকিউ অংশের সময়কাল ২০ মিনিট এবং লিখিত অংশ এক ঘন্টা ৪০ মিনিট।”
সকল পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না। সময়সূচি অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৮ অক্টোবর শেষ হবে।
এ বছর প্রায় ২০ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৪ জন।। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ লাখ ২১ হাজার ৩৮৬ জন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭১১ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৫ জন এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ পরীক্ষায় অংশ নেবে। সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৭৯০টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।”
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গত ১৯ জুন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বন্যা পরিস্থিতির কারণে ১৭ জুন তা স্থগিত করা হয়েছিল।
২০২৩ সাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সামনের বছর থেকে এমনিতেই ছুটি দুদিন। এখন এটা দু’দিনে এগিয়ে এনেছি। আমাদের হাতে আর খুব বেশি সময় নেই।আমরা এটা সাময়িকভাবে করেছিলাম। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যদি আগামী সপ্তাহ থেকেই ভালো হয়ে যায়, আর আমরা যদি সকলেই মনে করি যে, আমাদের যতটুকু কাজ আছে সেটা শেষ করার জন্য আর কয়েকটি দিন অতিরিক্ত হলে ভালো হয়, তাহলে হয়তো আমরা পরিবর্তনে যাবো কিন্তু আগামী বছর থেকে এটি দু’দিনই হবে।”
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “নতুন কারিকুলামে আমাদের দুই দিন ছুটি। সেটা আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা। আমাদের শিক্ষকরা অন্যান্য পেশার চেয়ে বছরে ৫২ দিন বেশি কাজ করেন।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষকদের একটু সময় দরকার, বাচ্চাদেরও সময় দরকার। সারা বিশ্বের সব স্টাডি বলছে, দুই দিন অন্তত ছুটি হলে, শেখার পক্ষেও সহায়ক এবং শেখানোর পক্ষেও সহায়ক।”