বাংলাদেশের সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সিলেটের শত শত যাত্রী। শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ তাদের পাঁচ দফা দাবিতে সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দূরপাল্লার একটি বাসও সিলেট ছেড়ে যায়নি বা প্রবেশ করেনি এবং শ্রমিকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় আন্তঃজেলা পরিবহনও চলাচল করেনি। এতে শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীরা ভোগান্তিতেপড়েন।
সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বলেছিলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায্য পাঁচটি দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু, আমাদের একটি দাবিও আজ পর্যন্ত মানা হয়নি।”
রাজন বলেন, “মঙ্গলবার ভোর থেকে সিলেট জেলার সড়কে কোনো চালক গাড়ি নিয়ে বের হবেন না। বুধবার থেকে সিলেট বিভাগে কোনো গাড়ি চলবে না। আমাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবহন শ্রমিকরাও। ফলে বুধবার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি শুরু হবে।”
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ জানান যে, তাদের পাঁচটি দাবি হলো; ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি, রেকারিং বাণিজ্য ও তিরিক্ত জরিমানা আদায় বন্ধ করা; মহানগর পুলিশ কমিশনার, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার ও অতিরিক্ত উপকমিশনারকে প্রত্যাহার; গাড়ি ফিটনেস মামলা সঠিকভাবে করা, সিলেট শ্রম আদালতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে হয়রানি বন্ধ করা এবং আদালত থেকে শ্রমিক প্রতিনিধি নাজমুল আলম রোমেনকে প্রত্যাহার; হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বন্ধ পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া; সিলেটের সব ভাঙা সড়ক সংস্কার করা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রি বন্ধ করা; অটোবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ডাম্পিং করা গাড়ি এবং অন্য জেলা থেকে আগত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা।