বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “সরকারকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করতে শিগগিরই ‘যুগপৎ’ আন্দোলনের রূপরেখা পেশ করা হবে।” তিনি বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুগপৎ আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে জাতির সামনে হাজির হব।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “আমাদের দল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে কাজ করে যাচ্ছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনার পর সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) আমাদের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করাই হবে মূল ফোকাস। অবশ্যই এই সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং ক্ষমতা একটি নিরপেক্ষ সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যার অধীনে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে এবং তারা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে সমস্ত ভোটার নির্বিঘ্নে তাদের ভোট দিতে পারে।”
এছাড়া, যে দলগুলো যুগপৎ আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে, তাদের নিয়ে ঐ নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারলে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রব্যবস্থার যে ক্ষতি করেছে, তা একক দলের পক্ষে মেরামত করা যুক্তিসম্মত হবে না। এ কারণে আমরা এই প্রক্রিয়ায় অন্যান্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই, যাতে আমরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-যেমন বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সংসদ ও গণমাধ্যম নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারি।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো একযোগে রাজপথে নামলে, আন্দোলন নিজেই তার ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল জানান যে, যুগপৎ সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির আলোচনা হয়েছে কিনা এবং ২০ দলীয় জোটে না থাকার বিষয়ে তাদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “জামায়াত ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে। আমরা এখন যুগপৎ আন্দোলনের কথা বলছি... সব দলই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলন করবে। আমরা এই বিষয়ে কথা বলছি।”