যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বজুড়ে শত শত ভুক্তভোগীর কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাকিং-এর জন্য অভিযুক্ত ৩ জন ইরানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ অবমুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোর ওপর র্যানসম আক্রমণের বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই দোষী সাব্যস্ত করা হলো। এই র্যানসম আক্রমণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের কোটি কোটি ডলার খরচ হয়েছে এবং এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সমস্যা মোকাবিলার প্রচেষ্টা বৃদ্ধিতে তৎপর হয়েছে।
ইরানি হ্যাকিং অভিযানের লক্ষ্যবস্তু সংস্থাগুলোর মধ্যে ছিল নিউ জার্সির একটি টাউনশিপ, দুটি একাউন্টিং ফার্ম, একটি বিদ্যুৎ কোম্পানি এবং পারিবারিক সহিংসতা রক্ষা কেন্দ্র।
সকলেই “র্যানসম ওয়েয়ার অ্যাটাক” নামে পরিচিত হ্যাকিং-এর শিকার ছিল। এই হ্যাকিং-এ অপরাধীরা একটি লক্ষ্যবস্তুর কম্পিউটার ফাইলগুলোকে এনক্রিপ্ট করে এবং সেগুলোকে ডিক্রিপ্ট করার বিনিময়ে বিটকয়েনে অর্থপ্রদানের দাবি করে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা কখনো কখনো মুক্তিপণ প্রদান করেছে।
আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় জোর দিয়ে বলেছেন যে, সাইবার আক্রমণের পেছনে অভিযুক্ত হ্যাকাররা ইরান সরকারের জন্য কাজ করেনি। ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে হওয়া সাইবার আক্রমণের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য অভিযুক্ত।
মনসুর আহমাদি, আহমাদ খতিবি আগদা এবং আমির হোসেন নিকাইন রাভারি নামে শনাক্তকৃত তিনজন হ্যাকার এখনো পলাতক রয়েছে এবং ইরানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের মতে, আক্রান্তরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরান, ইসরাইল, রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশে অবস্থান করেন।
আক্রান্তগুলোর মধ্যে ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, অলাভজনক সংস্থা এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।
হ্যাকাররা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, পরিবহন পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীসহ গুরুত্বপুর্ণ অবকাঠামো সংস্থাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল।