অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ওয়াশিংটনে কয়েক ডজন বিদেশী আইন প্রণেতার সাথে তাইওয়ানের বৈঠক


চীনের আক্রমণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে উত্তর তাইওয়ানের সিনচু কাউন্টিতে এক সামরিক অনুশীলনের সময় তাইওয়ানের পতাকা ধরে আছে একজন সৈনিক৷ ১৯ জানুয়ারী, ২০২১। (ফাইল ছবি)

ওয়াশিংটনে কার্যত তাইওয়ানের রাষ্ট্রদূত, সিয়াও বি-খিম, মঙ্গলবার কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক আইন প্রণেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বেইজিংয়ের সামরিক চাপের মধ্যেও যারা দ্বীপ দেশটির প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করে, চীনের আগ্রাসনের জন্য তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন, মূলত সেই সব আইন প্রণেতাকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ওয়াশিংটনে তাইওয়ানের কূটনৈতিক ভবনে ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার প্রায় ৬০ জন সংসদ সদস্যের অঘোষিত এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর, চীনও জোর করে দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করতে পারে, এমন আশংকা থেকে চীনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তাইপের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এটি ছিল সর্বসাম্প্রতিক পদক্ষেপ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর দেখা একটি খসড়া অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আন্তঃ-পার্লামেন্টারি অ্যালায়েন্স অন চায়না (আইপিএসি) এর সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই দলটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীন কর্তৃক "সামরিক বা অন্যান্য জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিরোধ" গ্রহণ করার জন্য তাদের সরকারগুলিকে চাপ দেওয়ার অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওই খসড়ায় বলা হয়েছে, “তাইওয়ানের প্রতি সামরিক আগ্রাসনের জন্য বেইজিংকে অনেক চড়া মূল্য দিতে হবে বলে চীনের প্রতি আমাদের সরকারের হুঁশিয়ারি নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রচারনা চালাব। ঐ খসড়ায় বলা হয়েছে, সামরিক বৃদ্ধি রোধ করতে অর্থবহ নিষেধাজ্ঞাসহ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলিকে এবং তাইওয়ানের সাথে বাণিজ্য ও অন্যান্য আদান-প্রদান যাতে অবাধে অব্যাহত থাকতে পারে, আমাদের সে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।"

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, তাইওয়ানের সাথে তাদের দেশের সম্পর্ক নির্ধারণ করা বেইজিংয়ের এখতিয়ার নয় এবং তারা আইন প্রণেতাদের পারস্পরিক সফর বাড়ানোর জন্য চাপ দেবে।

অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আনার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন এবং শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি বাতিল করে দেননি। তিনি আগামী মাসে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে তৃতীয় বারের মতো, পাঁচ বছরের জন্য তাঁর নেতৃত্বের মেয়াদ নিশ্চিত করতে চলেছেন। তবে, তাইওয়ান সরকার চীনের সার্বভৌমত্বের দাবিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ওয়াশিংটন তাইওয়ানকে আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে, চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করছে। একই রকম পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তাইপের তরফ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিও কূটনৈতিক চাপ দেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত সিয়াও, আইন প্রণেতাদের সাথে কথা বলার সময় বলেন, " উত্পীড়ককে দেখানো এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদেরও বন্ধু আছে”। রয়টার্সের দেখা অতিথি তালিকা অনুসারে: যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, জাপান, লিথুয়ানিয়া, ইউক্রেন, নিউজিল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের আইন প্রণেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, "আমরা উস্কানি দিতে চাই না, কিন্তু আমরা তাদের চাপের কাছে মাথা নত করব না।"

তিনি অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের দুই প্রতিনিধিকেও স্বাগত জানান।

XS
SM
MD
LG