বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, “এডিস বা ডেঙ্গু নিয়ে ২০১৯ সালে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও, ২০২০, ২১ ও ২২ সাল; এই তিন বছর আমাদের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় আমরা সফলতা অর্জন করেছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, “ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। বর্তমানে আবার এডিস মশা বেড়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে আমরা এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক ভালো আছি।”
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছিলেন এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২০১৯ সালের থেকে বেশি হবে। এবিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, তাজুল ইসলাম বলেন, “তারা তাদের বিভিন্ন গবেষণা থেকে ধারণা করেছেন। তাদের ধারণা যে সব সময় ঠিক হবে, সেটা বলা যাবে না। এর আগেও তারা ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন, কিন্তু তা ঘটেনি।”
চলতি বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী; সিঙ্গাপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৭০ জন, ভারতে ৩০ হাজার ৬২৭ জন, মালয়েশিয়ায় ৩৩ হাজার, ফিলিপাইনে ৮২ হাজার ৫৯৭ জন, কম্বোডিয়াতে তিন হাজার ৩২২ জন, ভিয়েতনামে এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৩৬ জন, ইন্দোনেশিয়াতে ৬৮ হাজার ৯০৩ জন। আর, বাংলাদেশে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৯ হাজার ৮৩৭ জন।
বর্তমানে ঢাকায় করোনা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি, এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছে যে তথ্য আছে সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য। জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৮৩৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। এর মধ্যে ঢাকা ও কক্সবাজারে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জন করে মোট ৩৪ জন। চট্টগ্রামে একজন ও বরিশালে চারজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।”
মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপ এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলেও জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।