অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ফিলিস্তিনি অধিকৃত এলাকাগুলো তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ রাজস্ব সংকটে


পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরে চার্চ অফ দ্য নেটিভিটি’র কাছের বন্ধ দোকানগুলোর পাশে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা, ২৩ নভেম্বর ২০২০।

বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন বা আঙ্কটাড এক নতুন প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে, ফিলিস্তিনি এলাকাগুলো তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়ে রয়েছে, যার প্রধান একটি কারণ হল আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস পাওয়া।

আঙ্কটাড জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনি অর্থনীতি এখনও কোভিড-১৯ এর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তারা বলছে মহামারীর ফলে কর্মহীনতার মাত্রা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে দারিদ্র্য ও দৈন্যদশা আরও গভীরতর হয়েছে।

তারা বলছে মহামারীর পূর্বের তুলনায় ২০২১ সালে ফিলিস্তিনের জিডিপি ৫.১ শতাংশ কম ছিল এবং বেকারত্ব ২৬ শতাংশের উচ্চমাত্রায় অবস্থান করছিল। উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে সেখানে ৩৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। একইসাথে খাদ্য অনিরাপত্তা বৃদ্ধি পেয়ে পশ্চিম তীরে ২৩ শতাংশ ও গাজায় ৫৩ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের জন্য সহায়তা বিষয়ক আঙ্কটাড-এর অর্থনীতিবিদ মুতাসিম এলাগ্রা বলেন, তাদের অর্থনীতি এতটাই দুর্বল যে সেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। সে কারণে অনেক ফিলিস্তিনি ইসরাইল ও তাদের বসতিগুলোতে কাজের সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, কর্মসংস্থান ও আয়ের এই উৎসের উপর ফিলিস্তিনিদের অতিমাত্রায় নির্ভরতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এলাগ্রা বলেন, “এমন কর্মসংস্থান অনিশ্চিত ও নিরাপত্তাহীন এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। … তাই ফিলিস্তিনি অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে স্থিতিশীলতা তৈরির বিকল্প এটি হতে পারে না।”

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দখলের ফলে আরোপিত সীমাবদ্ধতার কারণে ফিলিস্তিনি সরকার কার্যকরভাবে কোভিড-১৯ এর ধাক্কা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাতে বলা হয়, এটি তাদেরকে সেইসব নীতিকৌশল এবং রাজস্ব ও মুদ্রানীতি ব্যবহার করতে দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে যেগুলো অন্য সরকারগুলোর করতে পেরেছিল।

এলাগ্রা বলেন, এর ফলস্বরূপ গত দুই বছরে ফিলিস্তিনি সরকার গুরুতর এক রাজস্ব সংকটে জর্জরিত হয়ে রয়েছে।

XS
SM
MD
LG