অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের উপকুলীয় এলাকার চিংড়ি চাষ

উপকুলীয় এলাকায় চিংড়ি চাষ
উপকুলীয় এলাকায় চিংড়ি চাষ

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে বাংলাদেশের চিংড়ি চাষ। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, খরা আর ভাইরাসে উজাড় হচ্ছে চিংড়ি ঘের। এতে করে চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে উপকূলীয় জেলার চাষীরা।

বাংলাদেশের মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, “সম্প্রতি বৃষ্টি এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট জেলাতেই আট হাজার মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ছয় কোটি টাকা। আর ক্ষতিগ্রস্ত চাষীর সংখ্যা সাত হাজার। জেলায় ৬৯ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে ৭৭ হাজার ৬৫৭টি মৎস্য ঘের রয়েছে। মৎস্য চাষীর সংখ্যা ৬২ হাজার।

বাগেরহাট সদরের মাঝিডাঙ্গা গ্রামের অধিকাংশ ঘের পানিতে মিশে একাকার হয়ে গেছে। উপকুলের বিভিন্ন উপজেলায় মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র প্রায় অভিন্ন। তাই ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি চাষীরা সরকারের কাছে প্রণোদনা আর সহজ শর্তে ঋণের দাবি জানিয়েছে।

গত ১০ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পাঁচদিন ধরে একটানা বৃষ্টিপাত এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট সদর, রামপাল, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ এবং শরণখোলা উপজেলায় আট হাজার মৎস্য ঘের ডুবে গেছে। জেলা মৎস্য বিভাগের হিসাবে বাগেরহাটে মৎস্য সেক্টরে ক্ষতির পরিমাণ ছয় কোটি টাকা।

বাগেরহাট সদর উপজেলার মাঝিডাঙ্গা গ্রামের মীর হারুন অর-রশিদ জানান, ২০ বছর ধরে তিনি চিংড়ি চাষ করে আসছে। সাত বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের রয়েছে তার। বছরের শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে তার ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ভাইরাসে অনেক চিংড়ি মারা গেছে। প্রতিবছরই প্রাকৃতি দুর্যোগে তার ঘের ডুবে অথবা পানি সংকটে ঘের ক্ষতিগস্ত হচ্ছে। একের পর এক লোকসানে এখন তিনি চিংড়ি চাষের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এখন তিনি চিংড়ি চাষের বিকল্প হিসেবে গরুর খামার তৈরি করছেন।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি মহিতুল ইসলাম সুমন জানান, “একের পর এক বিপর্যয়ে চিংড়ি চাষীরা এখন সর্বস্বান্ত। প্রকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার ঘের ডুবে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি ভেসে যায়। সম্প্রতি পানিতে জেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ ভেসে গেছে। এ অবস্থায় প্রাকৃতি বিপর্যয় থেকে চিংড়ি শিল্পকে রক্ষা করতে চিংড়ি চাষীদের বীমার আওতায় নেওয়া দরকার।”

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল জানান, “বারবার প্রাকৃতি দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, আগ্রহ হারিয়েছে চাষীরা। পরিস্থিতি সমাল দিতে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

ক্লাস্টার হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত খামার সমষ্টি, যা সাধারণত একই অঞ্চল ও পরিবেশে খুব কাছাকাছি স্থানে অবস্থিত হয়। ক্লাস্টার পদ্ধতিতে খামারগুলোর মধ্যে অভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকা অপরিহার্য। যেমন; একই ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ বা অবকাঠামোর ব্যবহার, অভিন্ন বা কাছাকাছি চিংড়ি চাষ পদ্ধতির অনুসরণ, একই প্রজাতির মাছ বা চিংড়ি চাষ বা মিশ্রচাষ করা। আর থাকতে হবে উদ্যোগী সংশ্লিষ্ট দল।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, “এখন থেকে ঘেরের গভীরতা বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে চিংড়ির পোনা একই জায়গা থেকে ক্রয় করতে হবে। প্রথমে পকেট ঘেরে রেখে পোনা পরিচর্যা করতে হবে, নিয়মিত খাবার দিতে হবে। এই নিয়ম মেনে চললে চাষীরা লাভবান হবেন।”

“ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেলে চিড়িং চাষে আগ্রহ ফিরে আসবে চাষীদের;” জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেলী

XS
SM
MD
LG