বুধবার ফিলিপাইনের বিক্ষোভকারীরা প্রাক্তন স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের অধীনে হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা “কখনো ভুলবে না” বলে সংকল্প প্রকাশ করেছে। তারা সামরিক আইন জারির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অনুমান, ১৯৭২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মার্কোস সামরিক আইন জারি করার পর প্রতিদ্বন্দ্বী, সমালোচক এবং ভিন্নমতালম্বীদের ওপর তার নিরাপত্তা বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন এবং কয়েক হাজার মানুষ নির্যাতিত ও কারাবরুদ্ধ হন।
মানবাধিকার কর্মী এবং খ্রিস্টান গোষ্ঠীসহ শত শত বিক্ষোভকারী রাজধানী ম্যানিলাজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে, “আর কখনো নয়” এর মতো স্লোগান এবং সামরিক আইনের অধীনে নির্যাতনে শিকারদের ছবিসহ প্ল্যাকার্ড বহন করেছে।
সামরিক শাসন শুরু হওয়ার অর্ধ শতাব্দী পরে ১১,১০৩ জনের ওপর নির্যাতন, হত্যা, জোরপূর্বক গুম এবং অন্যান্য নির্যাতন হয়েছে বলে সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়েছে।
১৯৮৬ সালে “জনগণের শক্তি” নামক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মার্কোসের পতন ঘটেছিল এবং পরিবারটিকে নির্বাসিত করা হয়েছিল।
১৯৮৯ সালে মার্কোসের মৃত্যুর পর তার পরিবার ফিলিপাইনে ফিরে আসেন এবং একটি উল্লেখযোগ্য ভাবে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন শুরু করেন যা ৯ মে-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের বিজয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
তার ভূমিধ্বস জয়ে অনলাইনে গুজব প্রচারের ব্যাপারটি সাহায্য করেছিল। এসব গুজব স্বৈরশাসনের সময়কার অপব্যবহার এবং দুর্নীতিকে মুছে দেয়ার প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত হয়েছে।
তারা মার্কোস জুনিয়র এবং তার সমর্থকদেরকে সামরিক আইন সংক্রান্ত তথ্য বিকৃত করার এবং ফিলিপাইনের জন্য এটিকে “স্বর্ণযুগ” হিসেবে মিথ্যাভাবে চিত্রিত করার অভিযোগ তোলে।
কারাপাটান মানবাধিকার জোটের ক্রিস্টিনা পালাবে মার্কোস জুনিয়র ও তার প্রশাসনকে “একের পর এক মিথ্যা” বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, “মার্কোস এবং তার মানুষদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং গণনা প্রয়োজন।”