অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানে দেশব্যাপী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের সহিংস অভিযানে নিহত অন্তত ৬ জন


তেহরানে বিক্ষোভকারীরা একটি সড়কে পুলিশের হাতে আটক এক নারীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসে চাকুরি করেন না এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই ছবিটি সংগ্রহ করেছে এপি (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২)।

গত সপ্তাহে নিয়ম মেনে হিজাব না পরার অভিযোগে এক নারী পুলিশের হেফাজতে মারা গেলে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয়। এই বিক্ষোভের বিপরীতে সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ইরান। কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা সংঘর্ষে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার প্রকাশিত মন্তব্যে ইরান কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দিস্তানে ৪ জন সহিংস ঘটনায় নিহত হন এবং আরও ২ জন কেরমানশাহ প্রদেশে বিক্ষোভরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন।

ইরান কর্তৃপক্ষ সহিংসতার জন্য স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে দায় দিয়েছে। তবে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বুধবার জানিয়েছে, তাদের কাছে প্রমাণ আছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনগোষ্ঠীকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য ধাতব গুলি, কাঁদানে গ্যাস ও জল কামান, ব্যাটন দিয়ে প্রহারের মতো বেআইনি পন্থা অবলম্বন করেছে।

সংস্থাটি এই প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সোম ও মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কুর্দিস্তানে ৪, কেরমানশাহতে ২ ও পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের আরও ২ জন আছে। মৃতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১ নারী ও ১ জন শিশু।

অ্যামনেস্টির দাবি, শিশুসহ আরও শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুর্দিস্তানের ২২ বছর বয়সী নারী মাহসা আমিনি গত ১৬ সেপ্টেম্বর তেহরানে প্রাণ হারান। ৩ দিন আগে তাকে বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে জনসম্মুখে কিছুটা চুল খোলা রাখার অভিযোগে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।

অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে তেহরান থানায় আটকে রাখার অল্প সময় পরে কোমায় চলে যান আমিনি। পরবর্তীতে তিনি হাসপাতালে প্রাণ হারান। তার পরিবারের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ তাকে মারধর করেছেন। তবে পুলিশ তার কোনো ক্ষতি করার দায় অস্বীকার করেছে এবং কোনো প্রমাণ না দিয়েই দাবি করেছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। আমিনির আত্মীয়রা জানান, তার কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যা ছিল না।

আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে ইরানের ৩১টির মধ্যে ২৩ প্রদেশেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

XS
SM
MD
LG