অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব পেলো ইউক্রেন


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, জাতিসংঘের সদরদপ্তর)

বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আক্রমণাত্মক ঘোষণার পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইউক্রেন যুদ্ধের গুরুত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বুধবার দিনের প্রথমভাগে দেশের উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে পুতিন বলেন, ‘যদি আমাদের দেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়, তাহলে আমরা সন্দেহাতীতভাবে আমাদের হাতে থাকা সম্ভাব্য সকল উপায় অবলম্বন করে রাশিয়া ও এর জনগণকে রক্ষা করবো—এবং এটি কোনো ফাঁকা বুলি নয়।’

নিউ ইয়র্কে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এধরনের ‘স্পষ্ট পারমাণবিক হুমকি’ দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তির প্রতি মস্কো তার দায়িত্বকে ‘বেপরোয়া ভাবে অবজ্ঞা’ করার মনোভাব দেখাচ্ছে।

তিনি একইসঙ্গে পুতিনের ৩ লাখ রিজার্ভ সেনার সমাবেশ করা ও ৪টি অধিগ্রহণকৃত অঞ্চলে গণভোট আয়োজনেরও সমালোচনা করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি জাতিসংঘের অধিবেশনে পূর্বে ধারণকৃত ভিডিও বক্তব্য দেন।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানান, তার দেশের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং রাশিয়াকে শাস্তি দিতে হবে। তিনি শান্তির জন্য ৫টি শর্ত দেন, যার মধ্যে আছে মস্কোর কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি।

তিনি বলেন, ‘আগ্রাসনের জন্য শাস্তি, জীবনের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার পুনঃস্থাপন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও নিজেকে প্রতিরক্ষা দেওয়ার ইচ্ছাশক্তি—এটাই হচ্ছে অপরাধ ও শাস্তির ফর্মুলা।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা শান্তির জন্য প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে সত্য, সৎ ও সমতা নিশ্চিতকারী শান্তি।’

জেলেনস্কির বক্তব্য শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিরা দীর্ঘ সময় করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে তাকে উৎসাহ জানান।

বুধবার ইউক্রেন ও রাশিয়া নিজেদের মধ্যে ২৫০ জনেরও বেশি বন্দি বিনিময় করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফানি দুজারিক বলেন, ‘এটা কোনো ছোট ঘটনা নয়, তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ঘটা ভোগান্তির অবসান ঘটাতে আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে।’

XS
SM
MD
LG