অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন করেছে বাংলাদেশের কয়েকশ’ তরুণ-তরুণী


বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, ফ্রাইডেস ফর ফিউচারসহ ৭২টি দেশের তরুণদের বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন করেছে বাংলাদেশের কয়েকশ’ তরুণ-তরুণী। শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২।

বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট ২০২২ পালন করেছে বাংলাদেশের কয়েকশ’ তরুণ-তরুণী। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, ফ্রাইডেস ফর ফিউচারসহ ৭২টি দেশের তরুণদের বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় এই জলবায়ু ধর্মঘটের আয়োজন করে।

ধর্মঘটকারীরা এক বিবৃতিতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের সমর্থনে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বাংলাদেশ সরকারকে একটি ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করতে এবং বিশ্বনেতাদের অবশ্যই মুনাফার চেয়ে মানুষকে' অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এবং ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানান ধর্মঘটকারীরা। এসময় তারা তাদের দাবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

তাদের প্ল্যাকার্ডগুলোতে, 'জলবায়ু নয়, আপনাদের আচরণ পরিবর্তন করুন', 'আমার পৃথিবী, আমার দায়িত্ব', 'আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে', 'জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করুন', 'আমাদের একটি উষ্ণ ভবিষ্যত উপহার দেবেন না, 'আপনাদের জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার আমাদের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করছে', 'পরিবেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও', 'জলবায়ু পরিবর্তনের লড়াইয়ে যুবসমাজ’, ' দূষণ নয়, ভালোবাসা ছড়াও' স্লোগান লেখা ছিল।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া নাদিরা সাত্তার মীম বলেন, “প্যারিস চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল স্বাক্ষরকারী সব দেশ এ চুক্তির মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলবে। যাতে পৃথিবীকে সুরক্ষিত করা যায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যত গড়ে তোলা যায। কিন্তু বিশ্বনেতারা চুক্তির মূলনীতিগুলো বাস্তবায়নে কোনো কাজ করছেন না।”

আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “এই জলবায়ু বিক্ষোভ শিশু ও তরুণদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে একসঙ্গে তাদের আওয়াজ তুলতে সংগঠিত হতে সহায়তা করবে। আমরা মুখ বুজে কষ্ট সহ্য করতে পারি না।”

বিক্ষোভকারীরা তাদের চিন্তাভাবনা ও উদ্বেগ একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য, মিশরের শার্ম এল শেখে নভেম্বরে অনষ্ঠেয় কপ-২৭ এ অংশগ্রহণের স্বীকৃতি ও সুযোগের দাবি করেন।

জলবায়ু বিজ্ঞানীদের কথা উল্লেখ করে তরুণরা দাবি করেছেন যে, বিশ্বের তাপমাত্রা আর অর্ধেক ডিগ্রী বাড়লে, খরা, বন্যা ও প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। যা কয়েক মিলিয়ন মানুষের ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি ও দারিদ্র্যের কারণ হবে। বিশেষত বিশ্বের দক্ষিণ অংশের দেশগুলোর মানুষের জন্য এটি একটি বিড়ম্বনার বিষয়। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনে এ অঞ্চলের লোকেরা সবচেয়ে কম ভূমিকা রাখলেও, সবচেয়ে বড় মূল্য তাদের দিতে হবে।

“বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ০.৪৭ শতাংশের কম অবদান রাখা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়ার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে একটি; উল্লেখ করেন ধর্মঘটকারীরা।

XS
SM
MD
LG