অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইরানে সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভে অন্তত ৩৫ জন নিহত


ইরানের রাজধানী তেহরানে সরকারপন্থী প্রতিবাদকারীরা একটি মিছিলে অংশগ্রহণ করছেন। সে সময়ে তাদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা ও রেভোল্যুশনারী গার্ডের নিহত জেনারেল কাসেম সোলেমানির ছবি সম্বলিত পোস্টার। সোলেমানি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এক ড্রোন হামলায় ইরাকে নিহত হন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২।

ইরানে বিক্ষোভ-বিরোধীরা,দেশটির কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করতে শুক্রবার সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সমবেত হন। ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হাতে আটক থাকা অবস্থায় এক তরুণীর মৃত্যুর পর, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পর এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।

রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষ ইরানের পতাকা উড়িয়ে একটি মিছিলে অংশ নেন। অন্যান্য শহরেও একই ধরণের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সরকার দাবি করেছে যে, কর্তৃপক্ষের সমর্থনে এমন প্রতিবাদগুলো স্বতস্ফুর্ত। এর আগেও, ব্যাপক বিক্ষোভের সময়গুলোতে একই ধরণের মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সরকারপন্থী বিক্ষোভকারীরা আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দেয় বলে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। এটি সরকারের মতকেই প্রতিফলিত করে। দেশটির সরকার সর্বসাম্প্রতিক অশান্তির জন্য শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোকে দায়ী করে।

রাষ্ট্রীয় টিভি শুক্রবার দিনের শেষদিকে এমন ইঙ্গিত করে যে, এই সপ্তাহের অস্থিরতায়, নিহতের সংখ্যা ৩৫ পর্যন্ত হতে পারে। এর আগে, নিহতের সংখ্যা ২৬ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ২০১৯ সালের পর থেকে এটিই সবচেয়ে গুরুতর রাজনৈতিক সহিংসতা। অধিকার সংস্থাগুলো বলছে, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে, ঐ সময়ে হওয়া বিক্ষোভগুলোতে কয়েকশ’মানুষ নিহত হয়ে ছিলেন।

ইরান ইন্টারনেট সংযোগও ব্যাহত করেছে এবং ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ এর মত জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কেননা, ঐ মাধ্যমগুলোকে মিছিল-সমাবেশ সংগঠিত করতে ব্যবহার করা যায়।

এর জবাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানায় যে, তারা আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করার অনুমতি দেবে; যাতে করে ইরানের জনগণের জন্য ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করা যায়। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।


XS
SM
MD
LG