অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানের ইটের ভাটায় হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে শিশু শ্রমিকেরা


আফগানিস্তানের কাবুলের উপকণ্ঠে একটি ইট কারখানায় কাজ করছে আফগান শিশুরা। ২৬ জুলাই, ২০২২। (ফাইল ছবি)
আফগানিস্তানের কাবুলের উপকণ্ঠে একটি ইট কারখানায় কাজ করছে আফগান শিশুরা। ২৬ জুলাই, ২০২২। (ফাইল ছবি)

নাবিলা দিনে ১০ ঘন্টা বা তারও বেশি কাজ করে, কাদা ছাঁচে বাঁধার এবং ইট ভর্তি ঠেলাগাড়ি আনার মতো ভারী পরিশ্রম করে। ১২ বছর বয়সের নাবিলা জীবনের অর্ধেকই এই ইট ভাটায় কাজ করে কাটিয়েছে, এবং সে সম্ভবত তার সমস্ত সহকর্মীদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড়।

তালিবান দেশটির দখল নেওয়ার পর থেকে অর্থনীতির পতনের কারণে এবং বছর খানেক আগে গোটা বিশ্ব আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার ফলে, ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে কর্মরত শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে।

সেভ দ্য চিলড্রেন-এর একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুমান করেছে, আফগানিস্তানের অর্ধেক পরিবার জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় খাবারের নিশ্চয়তার জন্য শিশুদের দিয়ে কাজ করাতে বাধ্য হচ্ছে।

রাজধানী কাবুলের উত্তরে মহাসড়কের অনেক ইট ভাটার তুলনায় এটি মোটেও পরিষ্কার নয়। চুল্লিগুলির অবস্থা এমন যে এখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও কাজ করা কঠিন। কিন্তু তাদের প্রায় সকলেই, চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা তাদের পরিবারের সাথে গ্রীষ্মের গরমে সকাল থেকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত শ্রম দেয়।

রহিমের তিনটি বাচ্চা তার সাথে একটি ইটের ভাটায় কাজ করে, যাদের বয়স ৫ থেকে ১২ বছর। বাচ্চারা স্কুলে পড়েছিল, এবং রহিম, যিনি এক নামে পরিচিত, বলেন তিনি তাদের কাজে না পাঠাতে অনেকদিন পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তালিবান ক্ষমতায় আসার আগেই, যুদ্ধ চলতে থাকায় এবং অর্থনীতির অবনতি হওয়ায় তার আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, "এ ছাড়া আর কোন উপায় নেই, আমাদের খাওয়ার জন্য রুটি না থাকলে তারা কীভাবে পড়াশোনা করবে? বেঁচে থাকাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা প্রতি এক হাজার ইটের জন্য ৪ ডলারের মতো পায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক একা কাজ করে একদিনে এই পরিমাণ কাজ করতে পারে না, তবে শিশুরা সাহায্য করলে তারা দিনে ১,৫০০ ইট তৈরি করতে পারে।

XS
SM
MD
LG