অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বৈবাহিক অবস্থান নির্বিশেষে গর্ভপাতকে বৈধ করেছে


ভারতের সুপ্রিম কোর্ট । ফাইল ছবি

বৃহষ্পতিবার ভারতের শীর্ষ আদালত গর্ভপাতের ব্যাপারে নারীদের অধিকারকে সমুন্নত রেখেছে। বৈবাহিক অবস্থান নির্বিশেষে গর্ভধারণের ২৪ সপ্তাহ অবধি গর্ভপাত করা যাবে। এই রায়কে নারী অধিকার সক্রিয়াদীরা ব্যাপক ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী গর্ভপাতের অধিকার বিতর্কিত হয়ে পড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৩ সালের রো বণাম ওয়েড মামলায় গৃহীত ঐতিহাসিক রায়কে এ বছর জুন মাসে পাল্টে দেয়। ১৯৭৩ ‘এর ঐ রায়ে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন , “ বিবাহিত নারীদের মতো, অবিবাহিত নারীরাও গর্ভ ধারণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গর্ভপাত করাতে পারবেন”। তিনি বলেন একজন নারীর বৈবাহিক অবস্থান তার গর্ভপাতের অধিকার খর্ব করতে পারে না।

১৯৭১ সালের পুরোনো একটি আইন মেডিকাল টারমিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি অ্যাক্টে গর্ভপাতের অধিকার কেবলমাত্র বিবাহিতা, তালাকপ্রাপ্তা, বিধবা এবং প্রাপ্ত বয়স্কা নন কিংবা “বিশেষ প্রয়োজন সম্পন্না অসুস্থ্ নারী এবং যৌন নিপীড়ন অথবা ধর্ষণের শিকার নারীদের ক্ষেত্রেই শুধু প্রযোজ্য”।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে , “গর্ভপাত করানো হবে, কী হবে না সেটা নির্ভর করে জীবনের জটিল পরিস্থিতির উপর যা বাইরের কোন হস্তক্ষেপ কিংবা প্রভাব ছাড়াই একজন নারী নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন”।

এতে বলা হয় কোন তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই গর্ভপাতের ব্যাপারে একজন নারীর “প্রজনন স্বায়ত্তশাস” থাকা উচিত্।

বৃহষ্পতিবারের এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো একজন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যিনি বলেন তাঁর সম্পর্ক হয়েছিল পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিন্তু সম্পর্ক যখন ভেঙ্গে যায় তখন তিনি গর্ভপাত চেযেছেন।

নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন এই সিদ্ধান্ত ভারতের নারীদের অধিকারের ক্ষেত্রে মাইলফলক অতিক্রম।

আদালত আরও বলেছে যে স্বামীর দ্বারা যৌন হয়রানিকেও এই আইনের অধীনে বৈবাহিক ধর্ষণ বলে গণ্য করা যায়।

XS
SM
MD
LG