দক্ষিণ-পূর্ব ইরানে পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক সহিংস সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। দুই সপ্তাহ আগে, ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর, এটি ছিল সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষ।
ইরানে সংখ্যালঘু সুন্নি সম্প্রদায়ের মুসুল্লিরা সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের রাজধানী জাহেদানের মাক্কি গ্র্যান্ড মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়শই সংঘর্ষ হচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারবিরোধী বালুচ বিদ্রোহী এবং ইরানের সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাথে চোরাচালানে জড়িত বিভিন্ন অপরাধী চক্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ সিস্তান এবং বেলুচেস্তানের প্রাদেশিক গভর্নর হোসেন মোদাররেস খিয়াবানিকে উদ্ধৃত করে বলেছে যে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জন। এদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
ইরানের বিরোধীদের পরিচালিত ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)’ ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে থাকা তাদের সূত্র ধারণা করছে যে, সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আর, কমপক্ষে ২০ জন নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী ইরানি কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং তা কয়েকদিন পরই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং অধিকার কর্মীরা জানিয়েছে যে, দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভগুলো সরকার সহিংসভাবে দমন শুরু করলে, গত দুই সপ্তাহে কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মীসহ কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে এই বিক্ষোভ ছিল আমিনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভের প্রকাশ এবং নারীদের ওপর ইরানের কয়েক দশকের পুরনো বাধ্যতামূলক হিজাব পরার নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। পরে এই বিক্ষোভ আরও স্বাধীনতার এবং ইরানের ইসলামপন্থী শাসকদের উৎখাতের দাবিতে পরিণত হয়।
এই প্রতিবেদনটি ভয়েস অফ আমেরিকা ফার্সি বিভাগের সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে।