অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রাশিয়ার অধিভুক্তি প্রচেষ্টা নিয়ে জাতিসংঘের এক ভোটে সদস্য দেশগুলোর মতামত পরীক্ষা করা হবে


ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল রুশ সৈন্যরা দখল করে রেখেছে, সেগুলোর পরিকল্পিত অধিভুক্তি সূচিত করতে রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত একটি র‍্যালি উদ্দেশ্য করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভাষণ দেওয়ার সময়, রেড স্কয়ারে স্থাপিত একটি পর্দায় তাকে দেখা যাচ্ছে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২।

ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে অধিভুক্ত করার রাশিয়ার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা বিষয়ে আলোচনা করতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সোমবার এক বিশেষ অধিবেশনে বসবে। যুদ্ধ চলতে থাকায় রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পেয়েছে কিনা, তা এই অধিবেশন থেকে জানা যেতে পারে।

ক্রেমলিনের এক নাটকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঐ এলাকাগুলোকে রাশিয়ায় অধিভুক্ত করার একদিন আগে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ২৯ সেপ্টেম্বর বলেন, “জাতিসংঘ সনদটি স্পষ্ট: হুমকি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে কোন দেশের ভূখণ্ডকে অন্য কোন দেশ কোনরূপে অধিগ্রহণ করা, জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”

গুতেরেস বলেন, ডনেটস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিঝিয়াকে অধিভুক্ত করার কোন প্রচেষ্টারই “কোন আইনগত মূল্য থাকবে না” এবং তা “ঝুঁকিপূর্ণভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি” করবে।

এর একদিন পর, রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিজেদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে, তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি নিন্দা জানিয়ে তোলা একটি প্রস্তাবকে আটকে দেয়।

সেটি সাধারণ পরিষদে একটি পদক্ষেপের সূচনা করেছে, যেখানে কোন দেশেরই ভেটো ক্ষমতা নেই।

বিতর্ক ছাড়াও, দেশগুলোকে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ইউক্রেনের ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অধিভুক্ত করার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ইউরোপের করা এক খসড়া প্রস্তাবে ভোট দিতে বলা হবে দেশগুলোকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ওলফ স্কুগ খসড়াটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, “সেটি বস্তুনিষ্ঠভাবে, রাশিয়া যা করছে তার বৈধতা বা অবৈধতা কেন্দ্রিক।”

শুক্রবার ভিওএ’র দেখা ঐ খসড়াটি মহাসচিবের ঘোষণাকেই পুনর্ব্যক্ত করে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, একতা ও তাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের অভ্যন্তরে ভূখণ্ডের অখণ্ডতা বিষয়ে দেশগুলোর অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করে। এছাড়াও রাশিয়ার “অবৈধ তথাকথিত গণভোট” ও “অবৈধ অধিভুক্তির প্রচেষ্টার” প্রতি সেটি স্পষ্ট নিন্দা জ্ঞাপন করে বলে, সেগুলো আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অকার্যকর।

কূটনীতিকরা অনুমান করছেন বিতর্ক সোমবার ছাড়িয়ে যাবে এবং বুধবারের আগে কোন ভোটের আশা করা হচ্ছে না।

রেজোলিউশনটি পাস হতে, সেটির উপস্থাপনকারীদের উপস্থিত দেশগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের “হ্যাঁ” ভোট দরকার। ভোটদান থেকে বিরত থাকাদের এই দুই-তৃতীয়াংশের গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

XS
SM
MD
LG