অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের জন্য ৬২ লাখ ইউরো সহায়তা অনুমোদন করেছে ইইউ


রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পাশে একটি জনাকীর্ণ বাজার। (ছবি: ইউএনবি)

বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগণের জন্য ৬২ লাখ ইউরো নতুন সহায়তা অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউ-এর সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন ডিপার্টমেন্ট এই সহায়তা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর সোমবার (১০ অক্টোবর), বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য অব্যাহত সুরক্ষা এবং সহায়তায় উদার অবদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে স্বাগত জানিয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তার জন্য, ইইউ সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন (ইসিএইচও) উএনসিএইচআর-এর অন্যতম প্রধান দাতা।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি জোহানেস ভ্যান ডের ক্লাউ বলেন, “ইসিএইচও-এর অবদান, সমন্বিত এবং জবাবদিহিমূলক ভাবে, আমাদের মানসম্পন্ন সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম করে।”

তিনি আরও বলেন, “কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক প্রতিক্রিয়া যখন ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করছে; তখন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং ভাসান চরে ইউএনএইচসিআর-এর কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের টেকসই সমর্থন একটি অমূল্য বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।”

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক কর্মসূচির তত্ত্বাবধানকারী আনা অরল্যান্ডিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্রমাগত ভয়ানক পরিস্থিতিতে বসবাস করছে। এদের জন্য আমাদের অটল সমর্থনের প্রয়োজন, বিশেষ করে, যখন এদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রশ্ন আসে।”

“এই সহায়তা শরণার্থীদের জন্য নিশ্চিত করবে ইউএনএইচসিআর। বিশেষ করে সবচেয়ে ভয়ানক এবং ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সুস্থতা উন্নত করতে, পর্যাপ্ত এবং অর্থপূর্ণ সুরক্ষা পরিষেবা সরবরাহ করতে এই সহায়তা অবদান রাখবে;” বলেন আনা অরল্যান্ডিনি।

ইউএনএইচসিআর-এর অন্যতম অপরিহার্য অংশীদার এবং বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম দাতার এই অবদান, শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির উপর নজরদারিতে সহযোগিতা করবে বলে জানায় জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থা।

ইউএনএইচসিআর আরও বলে, “এই সহায়তা আইনি সহায়তার সুযোগ নিশ্চিত করবে এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ নিশ্চিত করবে। শিশুদের জন্য সুরক্ষা এবং সহায়তা পরিষেবাগুলোতে সহযোগিতা করবে।”

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সহিংসতা ও নৃশংসতার কারণে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার পাঁচ বছর পর; বর্তমানে ৯ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে বসবাস করছে। এছাড়া, আরও ৩০ হাজার শরণার্থী ভাসানচরে বসবাস করছে।

XS
SM
MD
LG