অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কক্সবাজারে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন শেষ হলো কল্প জাহাজ ভাসা উৎসবের মধ্য দিয়ে


প্রবারণা পূর্ণিমা

বাংলাদেশের কক্সবাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কল্প জাহাজ ভাসা উৎসবের মধ্যদিয়ে সোমবার( ১০ অক্টোবর) শেষ হয়েছে প্রবারণা পূর্ণিমা। এই উৎসবকে ঘিরে রামুর বাঁকখালী নদীর তীরে ও সমুদ্রসৈকতে এক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন গড়ে উঠে। রবিবার শুরু হওয়া উৎসব শেষ হয় সোমবার কল্প জাহাজ ভাসানোর মধ্যদিয়ে।

সোমবার বিকালে শহরের বৌদ্ধ মন্দিরস্থ ক্যাংপাড়াবাসী ও বড়বাজার রাখাইন সংঘের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন কল্প জাহাজ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে, সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় রঙ-বেরঙের পোশাক পরিধান করে, রাখাইন সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ অংশ নেয়। জাহাজভাসা উৎসবের আনন্দে শামিল হন সকল সমপ্রদায়ের মানুষ।

শোভাযাত্রার পর, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ভাসানো হয় কল্প জাহাজ। ঢেউয়ের তালে তালে বাঁশ, বেত, কাঠ, রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি নান্দনিক কল্প জাহাজ ভাসতে থাকে সাগর জলে।

রামু উপজেলার বাঁকখালী নদীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী কল্প জাহাজ ভাসাকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠে বাঁকখালী নদীর দুই তীর। উৎসবে রামু উপজেলার ছয়টি বৌদ্ধ পল্লীতে নির্মিত ৯টি কল্প জাহাজ অংশ নেয়। বাঁশ, বেত, কাঠ, রঙিন কাগজ দিয়ে অপূর্ব কারুকাজে তৈরি জাহাজে সম্রাট অশোকের প্রতিকৃতি, ঈগল, ময়ূর, ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়। ছয়-সাতটি নৌকায় এক করে সেই নৌকার ভেলায় বসানো হয় এক একটি জাহাজ।

বাঁকখালী নদীর দ্বীপ শ্রীকুল পয়েন্টে জাতীয় সঙ্গীত ও উদ্বোধনী গীতের মাধ্যমে জাহাজ ভাসানো উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই আনন্দায়োজন।

রামু কেন্দ্রীয় প্রবারণা পূর্ণিমা ও জাহাজ ভাসা উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পন বড়ুয়া জানান, “এ বছর রামু উপজেলার মধ্যম মেরংলোয়া, পূর্ব রাজারকুল, শ্রীকুল-হাইটুপী, দ্বীপ শ্রীকুল, মেরংলোয়া (সীমা বিহার), পূর্ব মেরংলোয়া, উত্তর মিঠাছড়ি, রাংকুট, চেরাংঘাটা রাখাইন পল্লী থেকে ৯টি কল্পজাহাজ নদীতে ভাসানো হয়েছে। এছাড়া চৌফলদন্ডী, খুরুশকুল, হারবাং, টেকনাফ ও চকরিয়াতেও এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।”

XS
SM
MD
LG