মনোরম সোয়াত উপত্যকায় সন্দেহজনক জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের হাজার হাজার মানুষ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাস্তায় নেমে এসেছে । তারা আশংকা করছে যে সহিংসতা বছরের পর বছর ধরে শান্তি, উন্নয়ন এবং পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।
সোয়াতের কেন্দ্রীয় শহর মিঙ্গোরায় মোটরসাইকেল আরোহী একজন অজ্ঞাত আততায়ী একটি স্কুল ভ্যানে গুলি চালানোর একদিন পর এই গণ বিক্ষোভ দেখা দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবারের গুলিতে চালক নিহত এবং একজন ছাত্র আহত হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সহ বিক্ষোভকারীরা চালকের লাশ একটি প্রধান সড়কে রেখে দেয় এবং শান্তি রক্ষার জন্য তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি দাফন করতে অস্বীকার করে।
জনতা স্লোগান দেয় “আমরা আমাদের মাটিতে শান্তি চাই”।
বিক্ষোভের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, "আমরা কষ্টার্জিত শান্তি বিনষ্ট হতে দিতে পারি না।" অন্য একজন লিখেছেন, "খুব দেরি হওয়ার আগেই আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নিন।"
পরে মঙ্গলবার, ৪০ ঘন্টার অবস্থানের পর, বিক্ষোভকারীরা সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর ছত্রভঙ্গ হতে সম্মত হয় যার ফলে নিহতদের পরিবার আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে, বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করতে এবং শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়।
সোমবারের হামলার জন্য কেউ দায় স্বীকার করেনি, তবে বাসিন্দারা নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি), যা পাকিস্তানি তালিবান নামেও পরিচিত, তারা এলাকায় সহিংসতা বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।
টিটিপি, যা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী তালিবানের পাকিস্তানি শাখা, দায় অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে মনোনীত চরমপন্থী গোষ্ঠীটি পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে হামলা চালিয়েছে, হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে হত্যা করেছে।
২০০৯ সাল পর্যন্ত সোয়াত টিটিপির শক্ত ঘাঁটি ছিল, যখন একটি বড় সামরিক নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জঙ্গিদের উচ্ছেদ করে এবং সেখানে সরকারী কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করে।
তবে পরবর্তী বছরগুলিতে, দরিদ্র অঞ্চলটি টেকসই উন্নয়ন, নতুন স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ এবং স্থানীয় পর্যটনের বিকাশ দেখেছে।