স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি মিলিশিয়া গ্রুপের সঙ্গে কয়েকদিনের সংঘর্ষের পর উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার একটি কৌশলগত শহর দখল করেছে শক্তিশালী জিহাদি গোষ্ঠী।
বাসিন্দাদের এবং একটি নজরদারি গোষ্ঠীর মতে, হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), যা পূর্বে আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল, বৃহস্পতিবার আফরিন শহরে প্রবেশ করে। তার আগেই সেখানকার প্রাক্তন শাসকরা তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে।
আফরিন, একটি কুর্দি-সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর, যেটি ২০১৮ সাল থেকে তুর্কি-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সিরিয়ার কুর্দি বাহিনী, যাকে আঙ্কারা সন্ত্রাসবাদী বলে মনে করে তাদেরকে তুর্কি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সেখান থেকে হটিয়ে দেয়া হয়েছিল।
শহরের একজন বাসিন্দা ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন যে তিনি "এইচটিএস এর ট্যাঙ্ক এবং সামরিক যানবাহনগুলিকে আফরিনে চলাচল করতে দেখেছেন যখন শহরে পূর্বে থাকা অন্যান্য মিলিশিয়া তাদের অবস্থান পরিত্যাগ করে এবং তাদের যানবাহন এবং সরঞ্জাম নিয়ে চলে যায়।"
এই বাসিন্দা, যিনি তার পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন কারণ তা তাকে বিপদে ফেলতে পারে, তিনি আরো বলেন যে "তিনি শহরের কয়েকটি অংশে দুই পক্ষের মধ্যে খুব ছোট সংঘর্ষের কথা শুনেছিলেন, কিন্তু মিলিশিয়া আসলেই আগত জঙ্গিদের প্রতিহত করেনি।"
এইচটিএস হল একটি ইসলামপন্থী গোষ্ঠী যেটি উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের বেশিরভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এটি হচ্ছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কয়েকটি অঞ্চলের মধ্যে একটি।
এইচটিএস যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে ঘোষিত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই গোষ্ঠীটি সিরিয়ায় আল-কায়েদার প্রধান সহযোগী ছিল এবং তারপর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, জঙ্গি গোষ্ঠীটি তাদের আল-কায়েদা-অনুপ্রাণিত মতাদর্শ বজায় রেখেছে।
ব্রিটেন-ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, আফরিনের দখলে অন্তত আরও দুটি অনুরূপ ইসলামি দল এইচটিএস-এর সাথে জড়িত ছিল।
আফরিনের আশেপাশে একদিকে এইচটিএস এবং এর মিত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং অন্যদিকে তুর্কি-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির মধ্যে তিন দিনের সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবারের ঘটনাগুলি ঘটে।
সিরিয়ান অবজারভেটরির পরিচালক রামি আবদুলরহমান ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, আফরিন তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগে এই এলাকার অন্তত ৩০টি স্থান এইচটিএস যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
বেশ কয়েকটি সশস্ত্র বিরোধী দল সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এসএনএ) ছত্রছায়ায় লড়াই করছে, যা তুরস্ক সমর্থিত। অধিকার গোষ্ঠীগুলি এই ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে আফরিন এবং উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার অন্য অঞ্চলেও বেসামরিক নাগরিকদের উপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেছে।