অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তাইওয়ানের সাথে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদনের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র


কাওহসিয়াং চলাকালীন একটি ইয়ুশান-ক্লাস ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডেক এর পাশে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তাইওয়ানের নৌবাহিনীর নাবিকরা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তাইওয়ানের সাথে যৌথভাবে অস্ত্র তৈরির একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে বলে, এক ব্যবসায়িক লবি বুধবার জানায়। চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানের প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারে অস্ত্র স্থানান্তর ত্বরান্বিত করতে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা তাইওয়ানে ২,০০০ কোটি ডলারেরও বেশি অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন করেছেন, যখন কিনা তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা চীন, এই দ্বীপরাষ্ট্রটির উপর সামরিক চাপ প্রয়োগ বৃদ্ধি করেছে।

তবে, তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা এবং ইউক্রেনে যুদ্ধের ফলে কিছু অস্ত্র ব্যবস্থার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট দীর্ঘসূত্রীতার কারণে সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

ইউএস-তাইওয়ান বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি, রুপার্ট হ্যামন্ড-চেম্বার্স পরিকল্পনাটি সম্পর্কে বলেন, “প্রক্রিয়াটি মাত্র শুরুর পর্যায়ে রয়েছে।” যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু প্রতিরক্ষা ঠিকাদার ঐ কাউন্সিলের সদস্য।

হ্যামন্ড-চেম্বার্স বলেন যে, কোন অস্ত্রগুলোকে এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে তা নির্ধারণ করা এখনও বাকি রয়েছে, তবে খুব সম্ভবত তাইওয়ানকে আরও গোলাবারুদ ও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহেই বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও পুনর্ব্যক্ত করে যে, তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক “ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুসুলভ”।

প্রচেষ্টাটির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের একজন মুখপাত্র বলেন: “দ্রুতগতিতে তাইওয়ানে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা স্থানান্তর করতে যুক্তরাষ্ট্র সকল ধরণের পন্থাই বিবেচনা করছে।”

এই পরিকল্পনার সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার আগে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ফোরামে বলেন যে, “আরও দ্রুততম সময়ে (তাইওয়ানের সাথে) পুনঃএকত্রীকরণের বিষয়ে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” তবে তিনি কোন নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি।

চীনের নেতা শি জিনপিং রবিবার বলেন যে, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগের অধিকার চীন কখনোই পরিত্যাগ করবে না, তবে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করবে।

\অপরদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের দফতর এই সপ্তাহে বলে যে, তাইওয়ান নিজেদের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে পিছপা হবেনা এবং নিজেদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে কোন ছাড় দিবে না। তবে তারা এও বলে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে মোকাবেলা করাটা কোন বিকল্প হতে পারে না।

XS
SM
MD
LG