অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গ্যাস সংকট: স্থানীয় যোগান বাড়াতে নতুন অনুসন্ধান শুরু করেছে পেট্রোবাংলা


বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন-পেট্রোবাংলা, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে বিয়ানীবাজার এবং পার্শ্ববর্তী বড়লেখা ও কানাইঘাট উপজেলায় অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, গ্যাস সংকটের এই সময়ে স্থানীয় যোগান বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) জানিয়েছেন, “নতুন গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের আশায়, নতুন কূপ খননের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে, অনুসন্ধান কাজের অংশ হিসেবে ঐ এলাকায় ভূকম্পন (সিসমিক) জরিপ চলছে।”

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “আরও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে, আমরা বুঝতে পারব যে নতুন এলাকায় গ্যাসের মজুদ আছে কি-না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, আমরা গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের দিকে যাব।”

তিনি জানান, “তিনটি উপজেলার ১৯১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান কাজ পরিচালনার জন্য চায়না পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ইজিপি ইন্টারন্যাশনালকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পের ২৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।”

ঢাকায় পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, নতুন কূপ খননের এই উদ্যোগের মাধ্যমে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল সময়সীমায় ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে, গ্যাস সংকটের পরিস্থিতিতে, স্থানীয় উৎস থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে পারে।”

পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যান দেখায় যে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন ৪০০ কোটি ঘনফুটের বেশি চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২৬৪ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়।

বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন বলছে, সারাদেশে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ না হওয়ায়, তাদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের একটি পরিত্যক্ত কূপে (কূপ-১) পুনরায় খনন কাজ শুরু করেছে। এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই কেন্দ্রে দুইটি কূপ রয়েছে। ১৯৯৯ সালে কূপ-১ এর গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়; আর, ২০১৪ সালে বন্ধ করা হয়। ২০১৬ সালের শুরুতে আবার সেই কূপ থেকে উৎপাদন শুরু হয় এবং ঐ বছরের শেষের দিকে আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

মিজানুর রহমান জানান, “সিলেট গ্যাস ফিল্ডস-এর অধীনে আরও তিনটি কূপ খনন করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৩ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, “সব ক’টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর, ২০২৫ সালের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড থেকে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ১৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

কর্মকর্তারা বলছেন যে ২০১৫ সাল থেকে স্থানীয় গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন ও সরবরাহ হ্রাস পাচ্ছে এবং নতুন অনুসন্ধানের কাজ না করা হলে ভবিষ্যতে এই হ্রাস-প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

XS
SM
MD
LG